বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা–সহায়ক কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৪ লাখ ৬২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার আওতায় আসবেন।
সোমবার ডব্লিউএফপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সহায়তার আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী এবং লার্নিং সেন্টারে অধ্যয়নরত শিশুরা অগ্রাধিকার পাবেন। এর মধ্যে ৩৬ হাজারের বেশি নারী পুষ্টি সহায়তা এবং প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুবিধা পাবে।
ডব্লিউএফপি জানায়, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক চাহিদা পূরণে এই অনুদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছিল।
এই অর্থায়ন দক্ষিণ কোরিয়ার মানবিক উদ্যোগ ‘রেসপন্ডিং উইথ ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর কনফ্লিক্ট-অ্যাফেক্টেড হাউসহোল্ডস’ (রিচ)-এর দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে। ডব্লিউএফপির অংশীদারত্বে পরিচালিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা।
ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যপণ্য নির্বাচন করতে পারে। পাশাপাশি অপুষ্টিতে আক্রান্ত গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নিয়মিত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহের মাধ্যমে তাদের লার্নিং সেন্টারে উপস্থিতিও উৎসাহিত করা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক মানবিক উদ্যোগে অবদান রাখা তার দেশের অঙ্গীকারের অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া কোরিয়া এখন বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত।
বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে জীবন রক্ষা, মর্যাদা বজায় রাখা এবং শিশু ও পরিবারের মৌলিক খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।
ডব্লিউএফপি জানায়, ১৯৬৪ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সংস্থাটির দীর্ঘদিনের অংশীদার। সর্বশেষ এই ৫০ লাখ ডলারের অনুদানের ফলে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার কর্মসূচিতে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট নগদ সহায়তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলারে।![]()