জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে নিউইয়র্ক থেকে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাঁচ দিনের সফরে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়নসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, শুক্রবার নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টা ১৯ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন। দুবাই হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। সেখানে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই দীর্ঘস্থায়ী সংকটটির একমাত্র সমাধান। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান তিনি। সফরের সময়ে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়।
এ ছাড়া তুরস্ক, ভুটান, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও হাইতির সরকারপ্রধানসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ১১টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
সফরের শেষ দিনে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণও সফরের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।![]()