বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহর বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠককক্ষে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি এবং উন্নয়ন সহযোগিতাকে ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে কেবল জনশক্তি রপ্তানি বা ঐতিহ্যগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প, বাণিজ্য ও অন্যান্য অর্থনৈতিক খাতে সৌদি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহের কথা জানান।
বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম উৎস। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতাও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে নতুন অংশীদার খুঁজছে। সেই বিবেচনায় সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় হয়। তবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতাকেই আলোচনার প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।![]()