নিউইয়র্কের আর্থিক কেন্দ্র ওয়াল স্ট্রিটে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, শীর্ষ ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি এবং প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল ব্যবস্থাপকদের সামনে বাংলাদেশকে নতুন বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট রাউন্ডটেবিল’-এ তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কার, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বেসরকারি খাতবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি কোম্পানি, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং উৎপাদন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ শ্রমশক্তি, রপ্তানিমুখী শিল্পভিত্তি এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুবিধাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কেবল স্বল্প ব্যয়ের উৎপাদন কেন্দ্র নয়; এটি এখন উচ্চমূল্যের শিল্প, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো বিনিয়োগেরও সম্ভাবনাময় অর্থনীতি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং কর, শুল্ক ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে একাধিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা, চুক্তি বাস্তবায়নে আইনি সুরক্ষা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর ভাষায়, বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আস্থা, আর সেই আস্থা প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, বন্দর উন্নয়ন, লজিস্টিকস, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রকল্প মূল্যায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি, তবু আলোচনাকে ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন উভয় পক্ষ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার সময়েও বাংলাদেশ যদি নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে উৎপাদন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এ ধরনের সরাসরি সংলাপ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
