মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন স্বাভাবিক ধারায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের শিল্প খাত সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সমস্যায় পড়েছিল। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও উৎপাদন ইউনিটগুলোতে সরবরাহের ওঠানামা উৎপাদন পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছিল।
টিবিএসের অর্থনীতি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তর কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ার কথা।
বাংলাদেশের শিল্প খাতে গ্যাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাকের বাইরে সিরামিক, ইস্পাত, কাচ, সার, টেক্সটাইল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পে গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে। সরবরাহ অনিয়মিত হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্যও চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়লে বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব সরাসরি পণ্যের মূল্য ও মূল্যস্ফীতিতে পড়তে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা এবং দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ কারণে অর্থনীতিতে জ্বালানি দামের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে।
শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এখন ব্যবসায়ীদের অন্যতম প্রধান দাবি। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা জরুরি বলেও ব্যবসায়ী মহল দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে।
বর্তমানে গ্যাস সরবরাহের উন্নতি শিল্প খাতকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এলএনজি আমদানি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে।![]()