হৃদরোগের চিকিৎসায় দ্রুত রোগ নির্ণয় ও জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাকের মতো পরিস্থিতিতে সময়মতো এনজিওগ্রাম, প্রয়োজনে স্টেন্টিং এবং জটিল অবস্থায় কার্ডিয়াক সার্জারির সুযোগ থাকা রোগীর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের জরুরি চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল।
ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টা প্রাইমারি এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টির সুবিধা চালু রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের রক্তনালির ব্লক শনাক্ত করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী একই চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় এনজিওগ্রামের পর স্টেন্টিংও করা সম্ভব। ফলে জরুরি সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।
ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করে। হাসপাতালটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে এটি বাংলাদেশের প্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ কার্ডিয়াক সেন্টার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হৃদরোগের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ও জটিল কার্ডিয়াক সার্জারির পাশাপাশি শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসাও দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
হাসপাতালটির তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৬৩ হাজার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার রোগীর স্টেন্টিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০টি বিভিন্ন ধরনের ক্যাথেটারাইজেশন বা ক্যাথ প্রসিডিওর সম্পন্ন করা হয়।
এনজিওগ্রাম ও স্টেন্টিংয়ের পাশাপাশি জটিল হৃদরোগের চিকিৎসায় কার্ডিয়াক সার্জারিও পরিচালনা করছে হাসপাতালটি। কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। এসব সার্জারিতে সফলতার হার প্রায় ৯৯ শতাংশ বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কার্ডিয়াক সার্জারি, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ও পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজির পাশাপাশি পেসমেকার প্রতিস্থাপন এবং ইলেকট্রোফিজিওলজিতেও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল। ফলে হৃদরোগের বিভিন্ন জটিলতায় রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা, ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা ও সার্জারি—একই প্রতিষ্ঠানে দেয়ার সুযোগ রয়েছে।![]()