ফেনীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো ধরে, অভিযোগগুলোকে স্পষ্টভাবে তার বক্তব্য হিসেবে রেখে সংবাদটি পুনর্লিখলাম।
অরাজকতা ঠেকাতে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সরকারের অনুসারী ও একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ আবারও এক হয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করতে যারা রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেম এবং মন্দিরের পুরোহিতদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা আসে।
তারেক রহমান বলেন, যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার রাজনীতি চর্চা করে এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কোনো কর্মসূচি রাখে না, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তার অভিযোগ, এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নয়; বরং ক্ষমতা দখলের রাজনীতি।
তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। অরাজকতা ও নৈরাজ্য দেখা দিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচিগুলো ব্যাহত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের নিয়মিত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর কৃষক কার্ডের আওতায় ধীরে ধীরে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকের মতো কৃষি উপকরণে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমানের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটলে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে সারা দেশে এক লাখের বেশি কৃষক কৃষক কার্ড পেয়েছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক ‘এক দফা’ দাবির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যারা এ ধরনের দাবি তুলছেন, তাদের জনগণের জন্য কী ধরনের কর্মসূচি রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের মতো কর্মসূচি তাদের রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান, খাল খনন এবং বন্ধ থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ। তিনি বলেন, জনগণকে তাই রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি কর্মসূচিগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে।
‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সরকারের অনুসারীদের মধ্যে যোগাযোগের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পতনের কয়েকদিন পরই তিনি এমন বক্তব্য দেখেছেন যে, ওই পক্ষের দেশে থাকা বা কাজ করার বিষয়ে কারও আপত্তি নেই। এ থেকে তিনি তাদের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকার অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে ওই দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ছিল। ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সর্বশেষ নির্বাচনের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে তিনি অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্য বা নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক নিপীড়ন, কারাবাস ও ‘গায়েবি মামলা’র প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে জনগণই রাজপথে নেমে এসেছিল। তার দাবি, তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট ওই সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারের নেওয়া সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি সহায়তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সরকারের এসব কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।![]()