জাহিদ হাসানের ফেসবুক স্ট্যটাস! ‘আজ আমি ৬০-এ পড়লাম!’ কথাটিতে বিস্ময় আছে, আছে ফিরে তাকানোর এক নরম অনুভূতিও। জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসানের কাছে ছয় দশক পার হওয়ার বিষয়টি যেন এখনো পুরোপুরি বাস্তব হয়ে ওঠেনি। বয়স বাড়লেও পরিবারের কাছে তিনি আজও সেই ছোট ছেলে, যাকে ঘিরে জন্মদিন মানেই ছিল বাড়তি আয়োজন।
শৈশবের জন্মদিনগুলো তাই জাহিদ হাসানের কাছে অন্য রকম। মা পায়েস রান্না করতেন, থাকত নানা রকম খাবার। কেক আসত, সঙ্গে চানাচুর, কলা—আরও কত কী। পরিবারের সবার ছোট হওয়ায় জন্মদিনের আয়োজনেও থাকত বিশেষ আদর। সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, বদলেছে জীবন। কিন্তু সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনো রয়ে গেছে।
জাহিদ হাসান বলেন, ‘অনেকের কাছে আমি বড় হলেও ফ্যামিলির সবার ছোট, তাই আজীবন সবার কাছে ছোটই থেকে গেলাম। বয়স যে এতটা বেড়েছে, তা ভাবনার মধ্যে আসে না।’
শৈশবের সেই স্বস্তির দিন অবশ্য একসময় বদলে যায়। আশির দশকের শেষ দিকে ঢাকায় আসার পর শুরু হয় জীবনের অন্য এক অধ্যায়—মেসজীবন। পরিবারের স্নেহের পরিবেশ ছেড়ে তখন নিজের জীবন নিজেকেই সামলাতে হয়েছে। একই ঘরে চার-পাঁচজনের সঙ্গে থাকা, নিজেদের খাবারের ব্যবস্থা করা—সব মিলিয়ে বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন।
১৯৮৯ সালের একটি জন্মদিনের স্মৃতি এখনো স্পষ্ট তার মনে। ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের একটি মেসের ঘর সেদিন নিজেই ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। মেসে রান্নার জন্য বুয়া থাকলেও সব সময় খাবার মুখে তোলার মতো হতো না। তাই কখনো কখনো নিজেরাই ভাজি-তরকারি রান্না করে খেতে হতো।
একদিকে ছিল জন্মদিনের স্মৃতি, অন্যদিকে জীবনের কঠিন বাস্তবতা। বাড়িতে যে দিনটিতে মায়ের হাতে রান্না করা পায়েস আর নানা খাবারের আয়োজন থাকত, ঢাকার মেসজীবনে সেই দিনই হয়তো ঘর পরিষ্কার করতে হয়েছে, নিজেদের খাবার নিজেদের রান্না করতে হয়েছে। জীবনের এই দুই প্রান্তই আজ তার স্মৃতির ভেতর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।
তবে সেই কষ্টকে এখন আর শুধু কষ্ট হিসেবে দেখেন না জাহিদ হাসান। বরং মেসজীবনের কঠিন সময়কে জীবনের শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখেন তিনি। তার উপলব্ধি, কষ্ট মানুষকে বাস্তবতা চিনতে শেখায়, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়। জীবনের পথ যে সহজ নয়, সেই বোধও তৈরি হয় তখনই।
জাহিদ হাসানের কথায়, ‘সত্যি বলতে, মেসজীবনের সেই কষ্ট আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কষ্টের মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে, আবার কষ্টের মধ্যে অশান্তিও আছে। জীবনে কোনো কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। তাই কষ্টের পরের সুখটা আসলে অন্য রকম।’
ছয় দশকের জীবনে তাই জাহিদ হাসানের জন্মদিন শুধু বয়স বাড়ার হিসাব নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে মায়ের হাতের পায়েসের গন্ধ, পরিবারের ছোট ছেলে হয়ে থাকার স্মৃতি, ঢাকার মেসের ঘর ঝাড়ু দেওয়ার দিন, নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং ধীরে ধীরে জীবনকে বুঝে ওঠার গল্প।
৬০-এ দাঁড়িয়ে ফিরে তাকালে শৈশব আর সংগ্রামের সেই দুই ছবি হয়তো আলাদা নয়। বরং একটিই দীর্ঘ যাত্রার দুই প্রান্ত—যেখানে আদর যেমন আছে, তেমনি আছে অভিজ্ঞতা; কষ্ট যেমন আছে, তেমনি আছে সেই কষ্ট পেরিয়ে পাওয়া সুখের স্বাদ।
জাহিদ হাসানের ফেসবুক স্ট্যটাস:
‘আজ আমি ৬০-এ পড়লাম!
অনেকের কাছে আমি বড় হলেও ফ্যামিলির সবার ছোট, তাই আজীবন সবার কাছে ছোটই থেকে গেলাম। বয়স যে এতটা বেড়েছে, তা ভাবনার মধ্যে আসে না।
ছোট ছেলে হওয়ায় এই দিনে বিশেষ আয়োজন থাকত। মা পায়েসসহ নানা খাবার রান্না করতেন, কেক আসত, থাকত চানাচুর, কলা আরও কত কিছু।
তবে আশির দশকের শেষ দিকে ঢাকায় আসার পর বদলে যায় সেই চিত্র। তখন মেসজীবন। ১৯৮৯ সালের এক জন্মদিনে ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের একটি মেসের ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলাম। ৪/৫ জন মিলে একটি ঘরে থাকতাম। রান্নার জন্য বুয়া থাকলেও সব সময় খাবার মুখে তোলার মতো হতো না। তখন নিজেরাই ভাজি-তরকারি রান্না করে খেতাম।
সত্যি বলতে, মেসজীবনের সেই কষ্ট আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
কষ্টের মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে, আবার কষ্টের মধ্যে অশান্তিও আছে। জীবনে কোনো কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। তাই কষ্টের পরের সুখটা আসলে অন্য রকম।’
![]()