দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আবাসন খাতে সিমেন্টের চাহিদা পূরণে উৎপাদন সক্ষমতা, গুণগত মান এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ব্র্যান্ড ফ্রেশ সিমেন্ট। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদনক্ষমতা বর্তমানে দৈনিক ২৫ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি খুলনায় আরেকটি সিমেন্ট কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে।
শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ছিল ২ হাজার টন, যা ৪০ হাজার ব্যাগ সিমেন্টের সমান। দুই দশকের বেশি সময়ের ব্যবধানে সেই সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২৫ হাজার টন বা পাঁচ লাখ ব্যাগে। উৎপাদন সক্ষমতার এই সম্প্রসারণের পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।![]()
দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়েছে ফ্রেশ সিমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু। এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী ও পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, যমুনা রেল সেতু, ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে, দ্বিতীয় ভৈরব রেল সেতু এবং হাটিকুমরুল ইন্টারসেকশন প্রকল্পের নির্মাণকাজেও এ সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।
সিমেন্টের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন থেকে প্যাকেজিং পর্যন্ত নিজস্ব সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নিজস্ব প্লান্টে উৎপাদিত ব্যাগেই ফ্রেশ সিমেন্ট প্যাকেজিং করা হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে জার্মান পলিকমের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রোলার প্রেস প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।![]()
সিমেন্টের বাজারে উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পণ্য সময়মতো ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে বিস্তৃত বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে এমজিআই। বিভিন্ন অঞ্চলে ঘাট ও ডিপোর পাশাপাশি সিমেন্ট পরিবহনে রয়েছে নিজস্ব মাদার ভেসেল, লাইটার ভেসেল ও বার্জ। স্থলপথে পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কাভার্ড ভ্যান ও বাল্ক ক্যারিয়ার।![]()
নৌ ও স্থলপথের সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সিমেন্ট সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রীর নিয়মিত সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় উৎপাদন ও পরিবহন সক্ষমতার সমন্বয় সিমেন্ট ব্যবসায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার অন্যতম শর্ত।
বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণেও ফ্রেশ সিমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিজস্ব পরিবহন অবকাঠামো এবং দেশব্যাপী বিতরণ নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। খুলনায় নতুন কারখানা স্থাপনের কাজ শেষ হলে উৎপাদন অবকাঠামো আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নতুন কারখানাটির উৎপাদনক্ষমতা ও চালুর সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।![]()