রাজস্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ১৫টি বড় কোম্পানির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইনোভেটিভ এইচআর। ২০২৩–২৪ অর্থবছরের তথ্য উল্লেখ করে প্রকাশিত তালিকায় তিতাস গ্যাস, গ্রামীণফোন, এসিআই, বিএসআরএম, রবি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও ওয়ালটনসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে তালিকায় দেওয়া রাজস্বের অঙ্কের সঙ্গে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত আর্থিক তথ্যের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।
তালিকায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনকে প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব দেখানো হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৯ মিলিয়ন টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রামীণফোনের রাজস্ব উল্লেখ করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৬৪ মিলিয়ন টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (এসিআই) রাজস্ব দেখানো হয়েছে ৪১ হাজার ৫২৮ মিলিয়ন টাকা।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বিএসআরএম, যার রাজস্ব দেখানো হয়েছে ৩৭ হাজার ৬৪ মিলিয়ন টাকা। পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের রাজস্ব ৩২ হাজার ৭৩৯ মিলিয়ন টাকা। ষষ্ঠ স্থানে থাকা রবির রাজস্ব ২৮ হাজার ৬৬১ মিলিয়ন টাকা।
পরবর্তী অবস্থানগুলোতে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব যথাক্রমে ২৭ হাজার ৫৩১ মিলিয়ন, ২৬ হাজার ৪১৭ মিলিয়ন, ২৪ হাজার ৭৭৬ মিলিয়ন ও ২২ হাজার ৩০১ মিলিয়ন টাকা।
তালিকার ১১ থেকে ১৫তম অবস্থানে রয়েছে সামিট গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও আকিজ গ্রুপ। এসব প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ২০ হাজার ৮৩৬ মিলিয়ন, ১৯ হাজার ৫৩০ মিলিয়ন, ১৮ হাজার ৭৬০ মিলিয়ন, ১৬ হাজার ৮৯২ মিলিয়ন ও ১৫ হাজার ৭২২ মিলিয়ন টাকা।
তবে তালিকার তথ্য যাচাইয়ে অসংগতি সামনে এসেছে। গ্রামীণফোনের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কোম্পানিটির রাজস্ব ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৬ মিলিয়ন টাকা এবং ২০২৪ সালে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৭ মিলিয়ন টাকা। ফলে তালিকায় গ্রামীণফোনের জন্য উল্লেখ করা ৪৯ হাজার ৩৬৪ মিলিয়ন টাকার সঙ্গে কোম্পানির প্রকাশিত হিসাবের মিল নেই।
তিতাস গ্যাসের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বিক্রয় ছিল প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৯ মিলিয়ন টাকা, যা তালিকায় উল্লেখিত ৫৩ হাজার ৩৮৯ মিলিয়ন টাকার চেয়ে অনেক বেশি।
তালিকায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবসায়িক গ্রুপও রয়েছে। ফলে সব প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব একই পদ্ধতিতে হিসাব করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিশেষ করে কোনো গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত আয় এবং একক কোম্পানির রাজস্বের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
রাজস্বের ভিত্তিতে কোম্পানির অবস্থান নির্ধারণে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, হিসাবের সময়কাল এবং রাজস্ব গণনার পদ্ধতি একই মানদণ্ডে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশিত তালিকাটিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর নির্ভুল র্যাঙ্কিং হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।![]()