সৌন্দর্যের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভার মেলবন্ধনে অনুষ্ঠিত হলো ‘মিস অ্যান্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন ২’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। জমকালো এই আয়োজনে মিস ও মিসেস—দুই বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পাশাপাশি নির্বাচিত করা হয়েছে ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২৬’-এর বিজয়ীও। পুরো আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন প্রতিযোগিতাটির চিফ অ্যাডভাইজার রাজু আলীম।
আলো ঝলমলে মঞ্চ, র্যাম্প ওয়াক ও ফ্যাশন উপস্থাপনায় সাজানো গ্র্যান্ড ফিনালেতে নিজেদের সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভা তুলে ধরেন নির্বাচিত প্রতিযোগীরা। কয়েক ধাপের বাছাই ও গ্রুমিং পর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।![]()
আয়োজনটির চিফ অ্যাডভাইজার রাজু আলীম তাঁর বক্তব্যে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নারীদের আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ তৈরির বিষয়টি এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়। ‘মিস অ্যান্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন ২’-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতেও প্রতিযোগীদের মঞ্চে নিজেদের উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই দিকগুলো ফুটে ওঠে।
![]()
![]()
প্রতিযোগিতার মিস বিভাগে বিজয়ীর মুকুট জিতে নেন সুমি রানি। প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হন রওনক তাসনিম ঐশী এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন সাবরিনা নাহার মহিমা। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে রওনক তাসনিম ঐশীর প্রাণবন্ত ও সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করে। তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনাও উপস্থিত অতিথিদের নজর কাড়ে।![]()
মিসেস বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন ফারহানা হোসেন বিথি। এ বিভাগে প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হয়েছেন জন্নাতুল ফেরদৌস কেয়া এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন সায়মা হাসিবা অপূর্ব। দুই বিভাগেই প্রতিযোগীরা নিজেদের মঞ্চ-উপস্থাপনা, ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বিচারকদের সামনে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরেন।
এ ছাড়া ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২৬’-এর মুকুট জিতেছেন নওরিন নাওয়ার অরিত্রি। একই আয়োজনে বিশেষ বিভাগে মিস ফায়ার নির্বাচিত হয়েছেন সপ্তর্ষি ক্রুজ, মিস এয়ার হয়েছেন জেনি জাহান এবং মিস ওয়াটার নির্বাচিত হয়েছেন রায়হানা আক্তার মিম। এসব বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।![]()
প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ছিলেন দেশের বিনোদন ও ফ্যাশন অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিরা। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা, অভিনেতা ও মডেল অন্তু করিম, এশিয়া জুয়েলার্সের প্রতিষ্ঠাতা তাসনুভা খান এবং নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। তাঁদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্যাশন মডেল ও কোরিওগ্রাফার তানজিল জনি এবং কোরিওগ্রাফার গৌতম সাহা।
‘মিস অ্যান্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মলি আক্তারের উদ্যোগে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়। আয়োজনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বোর্ড অব ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইবনে সাঈদ অঙ্কুর, বারিশা হক ও মাজহার সুমন। প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের দায়িত্ব ছিল গুরুত্বপূর্ণ।![]()
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই মঞ্চ থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান নারীরা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা নারীদের আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। সৌন্দর্যকে কেবল বাহ্যিক উপস্থাপনায় সীমাবদ্ধ না রেখে আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যও এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
![]()
সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ‘মিস অ্যান্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন ২’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে বিজয়ীদের মুকুট পরানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয়। মিস ও মিসেস বিভাগে বিজয়ীদের পাশাপাশি ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২৬’ এবং অন্যান্য বিশেষ বিভাগের বিজয়ীদের স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি নতুন সম্ভাবনার বার্তা তুলে ধরে।![]()