তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান। একই সঙ্গে তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক এস এ এম মাহফুজুর রহমান ও খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁদের নিয়োগ দিয়েছেন বলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
নতুন এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে তথ্য কমিশনের শীর্ষ তিনটি পদে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব পেল। তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন, নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি সরকার নির্ধারণ করবে। তাঁদের নিয়োগের আগে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগের সুপারিশ দিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান দেশের প্রথম নারী প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। তথ্য কমিশনের যাত্রা শুরুর প্রায় দেড় যুগের মধ্যে এই প্রথম কোনো নারী প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হলেন। এর আগে চারজন নারী তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও প্রধান তথ্য কমিশনারের পদে কোনো নারী নিয়োগ পাননি।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ দিয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রেস-২ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই তথ্য কমিশনারের নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জনস্বার্থে জারি করা আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পদগুলো শূন্য থাকায় তথ্য কমিশনের কার্যক্রমে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, নতুন নিয়োগের ফলে তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক ও তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম পদত্যাগ করেন। পরে আরেক তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টিকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুই বছরের বেশি সময় ধরে কমিশনের শীর্ষ পদগুলো কার্যত শূন্য ছিল।
এই সময়ে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ জমতে থাকলেও সেগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কমিশনের কার্যকর ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ে। তথ্য অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকাশনাসহ কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ায় এসব কার্যক্রম পুনরায় গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জমে থাকা অভিযোগের নিষ্পত্তি, কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা নতুন কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে উঠবে।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, নাগরিকদের সরকারি ও আইনটির আওতাভুক্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়ার অধিকার রয়েছে। নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করার পর তথ্য না পাওয়া, আবেদন প্রত্যাখ্যান করা বা আইন অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার অধিকার বাধাগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তথ্য কমিশনে অভিযোগ করতে পারেন। কমিশন অভিযোগ পর্যালোচনা ও নিষ্পত্তির পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও রাখে।
তথ্য কমিশনের কার্যকারিতা শুধু অভিযোগ নিষ্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, তথ্য প্রকাশের সংস্কৃতি জোরদার করা এবং নাগরিকদের তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার ক্ষেত্রেও কমিশনের ভূমিকা রয়েছে। ফলে নতুন কমিশনের সামনে একদিকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কাজ শেষ করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা বাড়ানোর দায়িত্ব রয়েছে।
নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক। তাঁর পাশাপাশি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাংবাদিক এস এ এম মাহফুজুর রহমান ও খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সরকার নির্ধারণ করবে। এর আগে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার জন্য বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
