ডিটিসিএর বাস রুট র্যাশনালাইজেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে একাধিক পরিবহন কোম্পানির বাস চললেও পরবর্তী সময়ে সেগুলো একীভূত করে একটি কোম্পানির অধীনে আনা হবে। নতুন কোম্পানির বাসগুলো একই ধরনের হবে। এরই মধ্যে বাসে রং করার কাজ শুরু হয়েছে।
পরীক্ষামূলকভাবে চালুর জন্য নির্বাচিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজীপুর-বিমানবন্দর-মহাখালী-মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-কলাবাগান-ঢাকেশ্বরী মন্দির, গাবতলী-শ্যামলী-আগারগাঁও-মহাখালী-রামপুরা-ডেমরা, দুয়ারীপাড়া-টেকনিক্যাল-আসাদগেট-নিউমার্কেট-সদরঘাট, ঘাটারচর-সায়েন্স ল্যাব-মৎস্য ভবন-মালিবাগ-রামপুরা-ডেমরা, ঘাটারচর-মোহাম্মদপুর-সায়েন্স ল্যাব-কাকরাইল-হানিফ ফ্লাইওভার-চিটাগাং রোড-কাঁচপুর এবং মিরপুর-১২-ফার্মগেট-গুলিস্তান-মাওয়া।
এসব রুটে বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে। ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার মাধ্যমে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে রাজধানীতে বাসের রুট রয়েছে ৩৮৮টি। এসব রুট কমিয়ে ৩২টিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে ডিটিসিএ। প্রস্তাবিত রুটের মধ্যে ঢাকার অভ্যন্তরে ১৯টি এবং শহরতলি ও আশপাশের এলাকায় ১৩টি রুট রয়েছে। তবে যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় ছোট, বড় ও চক্রাকার রুট মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬০টি রুট প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এদিকে রাজধানীতে পাঁচটি চক্রাকার বাস রুট চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফার্মগেট-পান্থপথ-সায়েন্স ল্যাব-আজিমপুর-পলাশী, মোহাম্মদপুর-মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-কলাবাগান-আজিমপুর-জিগাতলা-শংকর-মোহাম্মদপুর, গুলশান-২-বনানী-গুলশান-১-আমতলী এবং শুটিং ক্লাব-নাবিস্কো-গুলশান-১ রুটে ঢাকা চাকা নামের একটি কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে। অন্যদিকে কদম চত্বর-হাউজ বিল্ডিং-খালপাড়-পঞ্চবটী রুটে বাস চালাবে উত্তরা চাকা।
নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে বাসস্টপ নির্ধারণ, টিকিট কাউন্টার স্থাপন এবং সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাতের হকার উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত রুটগুলো থেকে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বাস চলাচলে কোম্পানিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালুর পাশাপাশি রুট ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবায় সমন্বয় আনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস চালু, কোম্পানিগুলোর কার্যকর সমন্বয় এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন-চ্যালেঞ্জ।![]()