তন্ময় মাহমুদ
গণমাধ্যমকর্মী
দীর্ঘ সময় দেশে একনায়কতান্ত্রিক রাজনীতির ধারা শেষ হয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কেবলমাত্র ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম নির্বাচনের জন্যই নয়, ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া এই নির্বাচনকে আরও বিভিন্ন কারণেই ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথমবারের প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ, দীর্ঘদিন পর বিএনপির ভূমিধ্বস জয়, গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং পরিবর্তনের পথে হ্যাঁ ভোটের বিজয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন পর এমন একটি সময় এসেছে, যখন বিজয়ের উচ্ছ্বাসের চেয়ে দায়িত্বের প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। দীর্ঘ দুই দশক পর সরকার পরিচালনার সুযোগ পাওয়া যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য এটি যেমন আনন্দের, তেমনি এটি কঠিন প্রত্যাশার ভারও বয়ে আনে। বহু আলোচনা, প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অস্থিরতার পর যে নির্বাচন তার শেষে এখন জাতীর চোখ রাষ্ট্র পরিচালার অবকাঠামো তথা নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। কেমন হবে নতুন মন্ত্রীসভা, কারা থাকছেন মূল দেশ পরিচালনার ভরকেন্দ্রে। প্রশ্নটি কেবল দলীয় আলোচনার নয়; এটি জনগণের আস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনার মান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরই মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এমনটাই দলীয় নেতাদের বক্তব্য। তাঁরা আশা প্রকাশ করছেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত শপথ পড়ানো হবে এবং দেশবাসী শিগগিরই নতুন সংসদ ও নতুন মন্ত্রিপরিষদ দেখতে পাবে। এ প্রত্যাশার পেছনে একটি ইতিবাচক বার্তা আছে। দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষ এখন কাজ, সংস্কার ও স্থিতিশীলতার স্পষ্ট রূপরেখা দেখতে চায়।
নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে, জানা গেছে দলীয় সূত্রে। যেখানে অতীতে দলের প্রতি ত্যাগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টনের কথা বলা হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিতও মিলছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আশাব্যঞ্জক কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় কাঠামোর চেয়ে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোই বেশি প্রয়োজন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যেও এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে যে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখা হবে। সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং রাষ্ট্র কাঠামোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা—এসব লক্ষ্য নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও এই ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান–এর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দুটি আসনে বিজয়ী হয়ে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তাঁর ওপর রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় স্বাভাবিকভাবেই বড়। তবে এই নির্বাচনে তাঁর সাফল্য কেবল পারিবারিক পরিচয়ের ওপর দাঁড়িয়ে নেই; বরং দলকে সংগঠিত করা, নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। যাকে তিনি নির্বাচনে জয়ের নেপথ্যে প্রধান ইঞ্জিনিয়ারিং বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে তিনি হবেন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। শুরু হবে একটি নতুন অধ্যায়।
নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি নতুন মুখের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনাও চলছে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে যাওয়ার সম্ভাবনা, স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সক্রিয় ভূমিকা এবং টেকনোক্র্যাটদের অন্তর্ভুক্তির আলোচনা, সব মিলিয়ে এরই মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর আভাস পাওয়া যায়। এই কাঠামো কার্যকর হলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা যেমন বজায় থাকবে, তেমনি নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও যুক্ত হবে। এই তালিকায় রয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জহিরউদ্দিন স্বপন, রেজা কিবরিয়া, এহসানুল হক মিলন, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, শরীফুল আলম, দেওয়ান সালাহউদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আসাদুল হাবীব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রকিবুল ইসলাম বকুলের নাম।
এই বিস্তৃত আলোচনার ভেতরেই হাবিবুর রশিদ হাবিবের নাম আলাদা করে গুরুত্ব পায়। তিনি এমন এক ধরনের রাজনীতির প্রতিনিধি, যা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কার্যকর থেকেছে। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে ধারাবাহিক কাজ এই পথ ধরেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, কঠিন সময়ে সংগঠনের পাশে থাকা এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে মাঠের বাস্তবতা বোঝার এক বিশেষ সক্ষমতা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বী তাসনিম জারা–এর বিপরীতে হাবিবুর রশিদ হাবিবের জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। এটি দেখিয়েছে, রাজনীতিতে এখনো মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ভূমিকা রাখে। তাঁর প্রচারণা ছিল সাদামাটা কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, বরং সরাসরি মানুষের কাছে যাওয়া। এই সরলতাই শেষ পর্যন্ত তাঁর শক্তি হয়ে উঠেছে।
এই অভিজ্ঞতা নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আলোচনায় একটি ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিগত জ্ঞান যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন মানুষের বাস্তব চাহিদা বোঝার ক্ষমতা। যাঁরা দীর্ঘদিন মাঠে থেকেছেন, তাঁরা সিদ্ধান্তের সামাজিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেন। হাবিবুর রশিদ হাবিব সেই ধরনের নেতৃত্বের উদাহরণ, যিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পেলে মাঠের অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন।
ঢাকার রাজনীতির দিক থেকেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। রাজধানী বরাবরই জাতীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক অভিজ্ঞ নেতা রাজনীতির সক্রিয় ক্ষেত্র থেকে সরে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন ঢাকার নেতা তৈরি করা জরুরি যাঁরা নগরের বাস্তব সমস্যা বোঝেন এবং মাঠের রাজনীতির অভিজ্ঞতা রাখেন। হাবিবুর রশিদ হাবিবের মতো এই শহরের মাটিতেই তৈরি হওয়া রাজনীতিকেরা এখানে একটি ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেন। নেটিজেনদের মধ্যে রাজনীতি সচেতন বিভিন্ন ব্যক্তির পোষ্টে বলা হচ্ছে ‘বিএনপি’কে বাঁচতে হলে, আগামী পঞ্চাশ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে বসতে হবে। দলটির অনেক প্রবীন নেতৃবৃন্দ মারা গেছেন। সাদেক হোসেন খোকা নেই, মির্জা আব্বাসও বর্ষীয়ান নেতা। এ অবস্থায় ঢাকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আগামী দশ বছরে। এবারের নির্বাচনে বিরোধী জোট ভোটার মাইগ্রেশন নামক যে ‘নতুন’ প্রথা চালু করেছে, তাতে ২০৩১ সালের নির্বাচনে বিএনপি’কে বড় ধরণের বিপর্যয়ে পড়তে হবে, যদি এখনি সতর্ক না হয়।
এখন প্রয়োজন ঢাকায় নতুন নেতা তৈরি করা। তাদেরকে ক্যাবিনেটে নিয়ে রাষ্ট্র চালানো ও অভিজ্ঞতা সৃষ্টি। প্রয়োজন ঢাকাবাসীর সামনে নতুন মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা হাজির করা। এ ক্ষেত্রে ঢাকার মাটিফোটা রাজনীতিকদেরকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। হাবীবুর রশীদ এখনও তরুন। মন্ত্রীত্বে আসলে আগামী ৩-৪ সরকারের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবেন। একসময় দলের শীর্ষ নেতৃত্বেও অভিজ্ঞ লোক দরকার পড়বে। তখন হাবিবুর রশিদের মতো নেতৃত্ব দলের হাল ধরতে পারবেন। হাবীবের মতো ঢাকার তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদদের মন্ত্রীসভায় অগ্রাধিকার দিলে সামনের দিনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে দলটি শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারবে।’
যদিও নতুন মন্ত্রিসভায় যাঁদের নাম আলোচনায় আছে তাঁদের মধ্যে অভিজ্ঞ, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, টেকনোক্র্যাট ও জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এখন এই কাঠামোর সাফল্য নির্ভর করবে দায়িত্ব বণ্টনের নীতির ওপর। যদি ত্যাগ, দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে সরকার শুধু কার্যকরই হবে না, বরং একটি আস্থা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতিও তৈরি করবে। অন্যদিকে বিএনপির ভবীষ্যৎ রাজনীতিতেও তা ইতিবাচক হবে বলে ধরে নেয়া যায়।
নতুন সরকারের সামনে এই আস্থাভিত্তিক রাজনীতির ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রত্যাশা ব্যবস্থাপনা। জনগণ এখন আর শুধু পরিবর্তনের স্লোগানে সন্তুষ্ট নয়; তারা পরিবর্তনের ফল দেখতে চায়। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এখানে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দূরদর্শিতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। যাঁরা মাঠের বাস্তবতা জানেন এবং একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণের কাঠামো বোঝেন, তাঁদের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভাই এই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।
নির্বাচনের মাধ্যমে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও আরেকটি অধ্যায়ের শুরু এখনো বাকি। বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও নির্বাচনব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য ধৈর্য, সংলাপ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় সরকার যদি বিরোধী কণ্ঠকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের অংশ হিসেবে দেখে, তবে আস্থার রাজনীতি আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।
এখানেই হাবিবুর রশিদ হাবিবের মতো নেতাদের গুরুত্ব বাড়ে। দীর্ঘদিন মাঠে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁদের শিখিয়েছে রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার চর্চা নয়, এটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের চর্চাও। এই সম্পর্কের মধ্যেই আস্থা তৈরি হয়, আর আস্থাই রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে বড় পুঁজি। মন্ত্রিসভায় বা গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিতে এমন নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে নীতিনির্ধারণ আরও বাস্তবঘনিষ্ঠ হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রজন্মগত সংযোগ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। তারা রাজনীতিতে নতুন ভাষা, নতুন আচরণ ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে চায়। নবীন ও প্রবীণের সমন্বিত নেতৃত্ব এই চাহিদার একটি ইতিবাচক উত্তর দিতে পারে। অভিজ্ঞতা পথ দেখাবে, আর নবীনতা গতি যোগাবে—এই সমন্বয়ই একটি কার্যকর সরকারব্যবস্থার মূল শক্তি হতে পারে।
সব মিলিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনকে ঘিরে যে আলোচনা চলছে, তা শুধু কে কোন পদ পাচ্ছেন তাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক চরিত্র কেমন হবে, সেই প্রশ্নের সাথেও যুক্ত।
রাজনীতির সাফল্য মাপা হয় মানুষের জীবনে এর প্রভাব দিয়ে। নতুন সরকারের সামনে সুযোগ এসেছে এই প্রভাবকে ইতিবাচকভাবে দৃশ্যমান করার। হাবিবুর রশিদ হাবিবের মতো মাঠঘনিষ্ঠ নেতৃত্বের উত্থান সেই সম্ভাবনারই একটি প্রতীক। এই প্রতীক যদি নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে প্রতিফলিত হয়, তবে আস্থার রাজনীতি কেবল একটি কথামালায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব দর্শনে রূপ নেবে।