পরীমণিও বুঝলেন যে, সাকলায়েনের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে! সেটা কি সত্যিই তিনি বুঝেছেন, নাকি জনরায় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত করতেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন? মানুষ বলছে, সাকলায়েন কেন, পরীমণিরও বিচার হওয়া দরকার।
সাবেক গোয়েন্দা পুলিশ (এডিসি) ও ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনায় আবারও মন্তব্য তুলে আনা হয়েছে পরীমণির।
২০২৪ সালের ২৫ জুন প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকলায়েন প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছিলেন পরীমনি। তখনও তিনি দাবি করেছিলেন, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।
সাকলায়েন চাকরি হারাতে পারেন, সেই সম্ভাবনা তৈরি হয় তখনই। সে প্রসঙ্গে তার মত জানতে চাইলে পরীমনি বলেছিলেন, ‘আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিক এটা নিয়ে বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।’
পরীমণি এখনও কোনো কথা বলেননি।
সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্ত আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।’
সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমণির কি কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল? এমন প্রশ্নে পরীমনি বলেছিলেন, ‘যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগে এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না এটার আর কোনো দরকার আছে।’
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পরীমনি দাবি করেন, সাকলায়েনের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রেম-ভালোবাসা যা-ই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারও বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।’
কে সেই ব্যক্তি? জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমি জানি না। তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত আক্রোশ। কিন্তু এমনটা নয়, প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে হয়েছে, তা আমি বিশ্বাস করি না।’
সাকলায়েনকে একজন মেধাবী কর্মকর্তা উল্লেখ করে পরীমনি তখন বলেছিলেন, ‘নিঃসন্দেহে সাকলায়েন একজন ট্যালেন্ট ও সফল মানুষ। ওর পেছনেও অনেকে হয়তো লেগেছিল। তার এখনকার বরখাস্ত হওয়ার ব্যাপারটা খুবই অদ্ভুত। এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। সাকলায়েনের প্রতি নিঃসন্দেহে অন্যায় হয়েছে।’
সাকলায়েনের জন্য খারাপ লেগেছে পরীমণির। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ বলছেন, এটাই সাকলায়েনের জন্য সুষ্ঠু বিচার। আবার অনেকে বলছেন, ভিডিও লিক না হলে তিনি এই বিচারের মুখোমুখি হতেন না। তবে অনেকে পরীমণিরও বিচার দাবি করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ‘নৈতিকতাবহির্ভূত’ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।