যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রফতানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য
মাহমুদ হাসান খান: সভাপতি, বিজিএমইএ
বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় গন্তব্য, যা দেশের কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে সরাসরি অবদান রাখছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল ক্ষণে দাঁড়িয়ে এটি স্পষ্ট যে, বিগত কয়েক দশকে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গড়ে ওঠা পারস্পরিক আস্থা এবং সুদৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আমাদের পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিংয়ে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এখন এক বড় ধরনের গুণগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এখন আর কেবল সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করার সুযোগ নেই; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কারখানার স্বয়ংক্রিয়করণ বা অটোমেশন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এই রূপান্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ফ্যাশন ও ডিজাইন কৌশল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ টেকসই ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতার এক চমৎকার কৌশলগত মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভব। দুই দেশের এই অংশীদারত্ব এখন আর কেবল তৈরি পোশাকের সাধারণ লেনদেনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এখন আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা (Green Factory) গড়ার এক যৌথ অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ যখন ২০২৬ সালের পরবর্তী নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জিং সময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বৃহৎ ও উচ্চ-মূল্যের বাজারে রফতানি ধরে রাখা এবং এর পরিধি বাড়ানো যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। প্রথাগত সুতি বা কটন পোশাকের বাইরে গিয়ে বিশ্ববাজারের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী উচ্চমূল্যের পোশাক, কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেইড ফাইবারের (MMF) পোশাক এবং বিশেষায়িত টেক্সটাইল খাতে মার্কিন বিনিয়োগ ও যৌথ কোলাবোরেশন দুই দেশের বাণিজ্যিক কূটনীতিকে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্ভাবন, সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বাণিজ্য নীতিকে সঙ্গী করে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের নীতিনির্ধারকদের যৌথ দূরদর্শিতা এবং আন্তরিক প্রয়াসই আগামী দিনে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের এই ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেশি টেকসই, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করবে।