বেসরকারি খাতে যাচ্ছে আরও তিন সরকারি পাটকল, ৪ আগস্ট ইজারা চুক্তি
লোকসানের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আরও তিনটি সরকারি পাটকল বেসরকারি খাতে ইজারা দিচ্ছে সরকার। আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইজারা-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে কারখানাগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা হবে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন তিনটি পাটকলের মধ্যে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা পাচ্ছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। এছাড়া খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা দেওয়া হচ্ছে হ্যামকো গ্রুপকে।
সরকারি পাটকল পুনরুজ্জীবনের অংশ হিসেবে বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টিকে ইজারার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর আগে ১৪টি কারখানা বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। নতুন তিনটি যুক্ত হলে ইজারায় দেওয়া পাটকলের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭টিতে।
ইজারা পাওয়া ১৪টি কারখানার মধ্যে বর্তমানে সাতটিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯ হাজার ৫২০ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। চারটি কারখানায় পাটজাত পণ্য এবং বাকি তিনটিতে সোয়েটার, জুতা, ছাতা, তাঁবু ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে চালু থাকা চারটি পাটকল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এসব পণ্য রপ্তানি করে বছরে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।
ইজারার বাইরে থাকা পাঁচটি পাটকলের মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার দুটি কারখানাকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একটি কারখানাকে ইজারার আওতায় আনার প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে এবং দুটি মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত ইজারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মামনুর রশিদ বলেন, নতুন তিনটি পাটকলের ইজারার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলো বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান, বাকি ইজারাযোগ্য তিনটি পাটকলও দ্রুত ইজারা দেওয়ার কাজ চলছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু হলে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘদিন অচল থাকা শিল্পসম্পদ আবারও অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।