ইসলামী ব্যাংকের ১০ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা চরম জুলুম: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়ে থাকলে তা চরম জুলুম ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইতিবাচক অবস্থানের প্রশংসা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আনিস আলমগীর এসব কথা বলেন।
তিনি লেখেন, তার ফেসবুক ওয়ালে এসে অনেকেই ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও তাতে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এখন ঘটনাটিকে ‘জুলুম’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আনিস আলমগীর বলেন, গতকাল চট্টগ্রামে চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা পুনর্বহালের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই ঘটনাটিকে ‘জুলুমবাজি’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় কোন দল আছে, সাধারণ মানুষের কাছে সেটি মুখ্য নয়। মানুষ এমন একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী চায়, যিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার পাশে দাঁড়াবেন এবং সবার সঙ্গে মিশবেন।
ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতির প্রসঙ্গে আনিস আলমগীর বলেন, ‘বিনা কারণে, অন্যায়ভাবে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা নিঃসন্দেহে চরম জুলুম এবং অমানবিক।’
রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ তুলে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা কেড়ে নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে অনেক নারী ও সাধারণ চাকরিজীবী রয়েছেন, যারা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন।
তিনি আরও বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট দলের লোকেরাই ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করবে—অথবা সরাসরি বললে জামায়াতে ইসলামীর লোকেরাই সেখানে চাকরি করবে—এমন বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য ধারণা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।
আনিস আলমগীরের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া হলে তা ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পরিপন্থী। চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে একটি ন্যায়সংগত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে।![]()