সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান এবং পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সোমবার রাতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য অথবা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
চিঠিতে রেড নোটিশ জারির অগ্রগতি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি)-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, আজিজ আহমেদের পর দেশের বাইরে অবস্থানরত মামলার অন্য পলাতক আসামিদেরও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ওই সময় তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হন।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অন্য মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।
এ ছাড়া তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও আসামির তালিকায় রয়েছেন।
মামলায় কয়েকজন সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগের মধ্য দিয়ে শাপলা চত্বরের মামলায় বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হলো। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে।![]()