নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ উপলক্ষে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে একটি আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যকর্মী ডা. তাসনিম জারা।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়ার সময় মির্জা ফখরুল তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “আপনারাই দেশের মালিক” এবং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই অনুপ্রেরণায় তিনি খিলগাঁওয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তাসনিম জারা।![]()
তিনি লেখেন, নির্বাচনের দিন সকালেই ব্যাপক কারচুপির চিত্র দেখলেও মির্জা ফখরুল নিজের আসনে বিজয়ী হওয়ার পরও কারচুপির মাধ্যমে গঠিত সংসদে যোগ দেননি। তাঁর ভাষায়, ক্ষমতার আসন পেয়েও কেবল নীতির কারণে তা প্রত্যাখ্যান করার সাহস খুব কম মানুষেরই থাকে।
ডা. তাসনিম আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করলেও মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর কখনোই মনে হয়নি যে তিনি অর্থ উপার্জনের জন্য রাজনীতিতে এসেছেন।
পোস্টে তিনি জানান, রাজনীতি বোঝার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রবীণ ব্যক্তির পরামর্শ নিয়েছেন এবং মির্জা ফখরুলের সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে, তিনি অকপটে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন, বইয়ের নাম সুপারিশ করেছেন এবং নিজের বইও উপহার দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন মানুষ খুব বেশি নেই, যিনি তরুণদের সঙ্গে বই ও চিন্তার জগত নিয়ে আলোচনা করেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুলকে আর কোনো দলের নয়, পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের সময়ই দেশের রাজনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর মুহূর্ত তৈরি হয় এবং রাষ্ট্রপতির পদ সেই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তাঁর বিশ্বাস, মির্জা ফখরুলের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদের সম্মান, মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হবে।![]()