ঢাকা: বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (বিজেইউসি)-এর সভাপতি রাজু আলীমের নেতৃত্বে নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছে সংগঠনটি। গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের তথ্য, গণমাধ্যম ও সম্প্রচার খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।![]()
এক অভিনন্দন বার্তায় বিজেইউসি সভাপতি রাজু আলীম বলেন, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ একজন মেধাবী, প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী ও রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব। দেশের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তার হাতে অর্পণ করাকে তিনি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজু আলীম বলেন, গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে তথ্য ও সম্প্রচার খাতকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন। ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মেধা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজেইউসি সভাপতি বলেন, দেশের সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা অনেক। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন—এমন প্রত্যাশা করছে বিজেইউসি।![]()
স্বাধীন সাংবাদিকতা বিষয়ে রাজু আলীম আরও বলেন, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা একে অপরের পরিপূরক। একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যম রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং সংবাদকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতে নতুন মন্ত্রীর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমন একটি গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে উদ্যোগী হবেন, যেখানে সাংবাদিকরা কোনো ধরনের চাপ, ভয় বা বাধা ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন রাজু আলীম। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব গণমাধ্যমের প্রচলিত কাঠামোকে দ্রুত পরিবর্তন করে দিয়েছে। এখন সংবাদ পৌঁছে যাচ্ছে মুহূর্তের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম মানুষের তথ্য গ্রহণের ধরন বদলে দিয়েছে। এ বাস্তবতায় দেশের তথ্য ও সম্প্রচার ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
নতুন মন্ত্রীর নেতৃত্বে তথ্যের অবাধ প্রবাহ, ডিজিটাল গণমাধ্যমের বিকাশ এবং আধুনিক সম্প্রচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিজেইউসি সভাপতি।
রাজু আলীম বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি পেশাগত ও নৈতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করাও জরুরি। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় যাতে ভুল তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক সংগঠন এবং সরকারের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বিকাশে মন্ত্রণালয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
দেশের সাংবাদিক সমাজ শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নয়, একই সঙ্গে সংবাদকর্মীদের কল্যাণ, চাকরির নিরাপত্তা, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এসব ক্ষেত্রে নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সহযোগিতা সাংবাদিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিজেইউসির সভাপতি বলেন, “আমরা আশা করি, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের কথা শুনবেন এবং তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক উদ্যোগ নেবেন। তার নেতৃত্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আরও গণমাধ্যমবান্ধব, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে। সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভুল-ত্রুটি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও স্বাধীনভাবে তুলে ধরার সুযোগ থাকতে হবে। একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের বিকল্প নেই।
এদিকে বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপির নতুন দায়িত্বকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের গণমাধ্যম খাতের উন্নয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংবাদপত্র ও সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় নতুন মন্ত্রীর যেকোনো গঠনমূলক উদ্যোগে বিজেইউসি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বিজেইউসি সভাপতি রাজু আলীম বলেন, সাংবাদিক সমাজের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে চায় সংগঠনটি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশের তথ্য ও সম্প্রচার খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগেও বিজেইউসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
তিনি নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল কর্মজীবন কামনা করেন। একই সঙ্গে নতুন দায়িত্বে তার প্রতিটি পদক্ষেপ দেশের গণমাধ্যম, সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিজেইউসি সভাপতি রাজু আলীমের এই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তায় সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন মন্ত্রীর প্রতি আস্থা ও প্রত্যাশার বিষয়টি উঠে এসেছে। সাংবাদিক সমাজের পেশাগত মর্যাদা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সম্প্রচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা থাকবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ।![]()