পতিত সরকারের আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতিতেই বর্তমান সংকট: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
জ্বালানি খাতে বর্তমান সংকটকে আগের সরকারের আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির ফল বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সংকট তৈরি হয়নি। আগের সরকারের আমদানিনির্ভর নীতির কারণেই দেশে জ্বালানি সরবরাহে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গতকাল কুমিল্লা টাউন হলে ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক ও কোটবাড়ি এএইচকে স্যাটেলাইট সিটির ধারণাপত্র উপস্থাপনবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিও জ্বালানি সংকটকে আরও জটিল করেছে। ইরান-ফিলিস্তিন পরিস্থিতির প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটিও সংকটের অন্যতম কারণ। তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় মধ্যমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের উত্তোলন বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলা এবং নিজস্ব গ্যাসের উৎস কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলায় সম্প্রতি আবিষ্কৃত গ্যাস কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, সেটিও সরকার বিবেচনা করছে।
এসব উদ্যোগের সুফল এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, অন্যদিকে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। এতে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে, কিন্তু এর পরও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সময়ের যাত্রা শুরু হয়েছে। এখনো অনেকে শরীরে ক্ষত নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তাঁদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায় রয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে এবং সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়াই সেই দায় পরিশোধের অন্যতম পথ।
সেমিনারে মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে বিকল্প আরেকটি মহাসড়ক নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়কটি নির্মিত হলে কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটবে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে কৃষি ও শিল্পের বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান আমির।![]()