সরকারের ইকুইটির বিপরীতে ৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন অনুযায়ী, প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ৪ কোটি ৫৯ লাখ অনবসায়নযোগ্য ও নন-কিউমুলেটিভ অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যু করবে কোম্পানিটি।
গত ৩১ আগস্ট ডেসকোকে দেওয়া এক চিঠিতে এ সম্মতি জানিয়েছে বিএসইসি। শেয়ারগুলো বাংলাদেশ সরকারের অনুকূলে ইস্যু করা হবে। সরকারের পক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব প্রতিনিধিত্ব করবেন।
অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারগুলো অবসায়নযোগ্য না হওয়ায় কোম্পানি সচল থাকা অবস্থায় বিনিয়োগের অর্থ ফেরত নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ডেসকো অবসায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারের আগে এসব শেয়ারের অর্থ পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে শেয়ারগুলো নন-কিউমুলেটিভ হওয়ায় কোনো বছর লভ্যাংশ না পাওয়া গেলে তা পরবর্তী বছরের সঙ্গে যুক্ত হবে না।
ডেসকোর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৪৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯ টাকা ৫ পয়সায়।
এর আগে ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে ডেসকোর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৩ টাকা ১৫ পয়সা। আগের বছর এ লোকসান ছিল ১২ টাকা ৭২ পয়সা। ওই দুই বছরই বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে অবশ্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল ডেসকো।
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডেসকোর অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ সরকারের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার।![]()