দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের আগে পুনর্বাসন ও জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে এ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
সাবিকুন্নাহার বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কথা বিবেচনা করছে। তবে এ পদ্ধতিতে কৃষিজমি, বসতি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফুলবাড়ী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে এ ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের সমাধান জরুরি হলেও কয়লা উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি নষ্ট, মানুষ উচ্ছেদ কিংবা পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়া উচিত নয়। তাই প্রকল্প নেওয়ার আগে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা প্রকাশ এবং স্থানীয় জনগণের সম্মতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুলবাড়ীর কয়লা বিশ্বের উন্নত মানের কয়লাগুলোর একটি। এ কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট মোকাবেলা করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং তা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে।
তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের আগে স্থানীয়দের পুনর্বাসন ও জীবিকার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি থাকায় প্রথমে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বন্দোবস্ত করা যায়, তা ঠিক করা হবে। তাঁদের আয়-রোজগার যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য প্রকল্প নেওয়া হবে। প্রকল্প থেকে তাঁরা কীভাবে সুবিধা পাবেন, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গ্যাস সংকট নিয়ে সংরক্ষিত আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) দুর্বল করে রাখা হয়েছিল। পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না হওয়া এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে সাতটি কূপের খননকাজ চলছে। এগুলো শেষ হলে আরও ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।
দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি করে নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ছাড়া অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে। সমুদ্র ও স্থলভাগে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।![]()