সেপ্টেম্বরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে গতি বেড়েছে। মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে ১৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকার বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের এ সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনের দৈনিক গড় হিসাবও রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে। বিশেষ করে ১৩ সেপ্টেম্বর একদিনেই ২ হাজার ৩৭৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার সমপরিমাণ প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। ফলে মাসের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে। প্রবাসী আয় বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের প্রবাহ বাড়ে, যা আমদানি দায় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেন এবং মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
প্রবাসী আয়ের অর্থ শুধু বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার তাদের দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল। ফলে রেমিট্যান্স বাড়লে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ানো, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন সহজ হওয়া এবং প্রবাসীদের আনুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দেওয়ার নানা উদ্যোগ রেমিট্যান্স প্রবাহে ভূমিকা রাখছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রমিকদের আয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে যে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনের তথ্য তাতে নতুন গতি যোগ করেছে। মাসের বাকি সময়েও এ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরের মোট রেমিট্যান্স আগের বছরের একই মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় রপ্তানি ও রেমিট্যান্স—দুটি উৎস থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেন ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
![]()