ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তরের এনসিপি প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকেও ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন তিনি।
এক পোস্টে নীলা ইসরাফিল লিখেছেন, ‘আসিফ আর পাটওয়ারী উত্তর-দক্ষিণে মেয়র ইলেকশন করবে, আর আমি জার্মানিতে বসে তামাশা দেখব—এটা হয় না। ঢাকা দক্ষিণের হিসাবটা আমার। ইলেকশনটা আরও জমাতে জার্মানি থেকে দেশে ফিরতেছি।’
এরপর তিনি আসিফ ও পাটওয়ারীকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘দুজনেই প্রস্তুত থাকো।’ ইংরেজিতে দেওয়া বার্তায়ও তিনি লিখেছেন, ‘নিলা ইসরাফিল ইজ কামিং। ইউ টু বেটার বি রেডি। দ্য গেম ইজ অ্যাবাউট টু চেঞ্জ।’
নীলা ইসরাফিলের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর দলটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে।![]()
এর আগে গত মে মাসেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন নীলা ইসরাফিল। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেছিলেন, মানুষের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় তিনি প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যও তুলে ধরেছিলেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সক্রিয় ছিলেন নীলা ইসরাফিল। পরে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। দলটির ভেতরের বিরোধের জেরে পরবর্তী সময়ে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগে ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ছিল। পরে প্রার্থী বদল করে আসিফকে উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে পাঠানো হয়। দলীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই সিটে প্রার্থী বাছাইয়ের আগে সমীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছিল।
ফলে নীলা ইসরাফিলের সর্বশেষ বক্তব্য দক্ষিণ সিটির মেয়র নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে তিনি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও এবার তাঁর বক্তব্যে এনসিপির ঘোষিত দুই প্রার্থীকেই সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে নীলা ইসরাফিলের নির্বাচনী প্রতীক, প্রচারের সাংগঠনিক কাঠামো, দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে তাঁর সর্বশেষ বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।![]()