দেশের সাধারণ বীমা খাতে কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়লেও গ্রাহকদের বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর কাছে জমা হওয়া প্রায় ৩ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকার দাবির মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে প্রায় ৩ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা বা ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করেছে তালিকাভুক্ত ৪৩টি সাধারণ বীমা কোম্পানির মধ্যে ৪১টি। এর মধ্যে ৩৩টি কোম্পানির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে এবং আটটির মুনাফা কমেছে। খরচ কমে যাওয়া, ব্যক্তিগত এজেন্ট কমিশন বন্ধ হওয়া এবং কিছু কোম্পানির সামুদ্রিক বীমা ব্যবসা বাড়াকে মুনাফা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির উপদেষ্টা খাজা মঞ্জের নাদিম বলেন, সাধারণ বীমা ব্যবসায় বছরের প্রথম তিন মাসে ভালো পারফরম্যান্স হয়েছে। ব্যক্তিগত এজেন্ট কমিশন বন্ধ হওয়া, প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় কমে যাওয়ায় মুনাফা বাড়তে সহায়তা করেছে। তার মতে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে জমা হলে অনেক দাবি ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্বের পেছনে অসম্পূর্ণ কাগজপত্র, পুনর্বীমা অর্থ পেতে দেরি, তারল্য সংকট, দুর্বল আর্থিক সক্ষমতা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ দুর্বলতা এবং আইনি বিরোধকে দায়ী করেছেন।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মির নাদিয়া নীভিন জানিয়েছেন, প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার অনিষ্পন্ন বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার। এর মধ্যে আর্থিকভাবে দুর্বল সাতটি বীমা কোম্পানির কাছেই প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার দাবি রয়েছে।
বীমা খাতে মুনাফা বাড়লেও গ্রাহকের বৈধ দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে খাতটির ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।![]()