বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণে ব্যাংকঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এপ্রিল ও মার্চে এ হার ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭৫ ও ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।
ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ সুদহার, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের সতর্ক অবস্থান ঋণের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণের দুর্বলতা একই সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমস্যাও সামনে আনছে। বাংলাদেশের করপোরেট অর্থায়নের প্রায় পুরোটা ব্যাংকনির্ভর। সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেসরকারি খাতের প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্থায়ন ব্যাংক থেকে আসে, বিপরীতে পুঁজিবাজারের অংশ মাত্র প্রায় ১ শতাংশ।
২০২৫ অর্থবছরে শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণ বিতরণ হয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। একই সময়ে আইপিও ও রাইট শেয়ারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো মাত্র ৩০২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংকঋণের বিকল্প হিসেবে কার্যকর বন্ড, ইকুইটি ও সুকুক বাজার তৈরি না হলে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের ঝুঁকি ব্যাংকিং খাতেই কেন্দ্রীভূত থাকবে।![]()