শিক্ষায় বিনিয়োগ ও শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত না করলে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শিক্ষার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাব্যবস্থাকে অবহেলা করে কোনো জাতিই দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে না। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
রিজভীর ভাষ্য, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বা আয় বাড়ানোর ওপর নির্ভর করে না। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি না হলে সেই উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ভিত্তি হলো কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা।
তিনি বলেন, বিশ্বের দেশগুলো জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সেই প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
রিজভী আরও বলেন, শিক্ষকরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করেন। তাই তাদের যথাযথ সম্মান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষকতার পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করার ওপর গুরুত্ব দেন।
রিজভীর মতে, শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের বাইরে রাখলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নে। বিপরীতে শিক্ষায় কার্যকর বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে এবং দেশের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।
![]()