ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিরল অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে দুই পরাশক্তির সম্পর্কের উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমিয়ে রাখার পাশাপাশি নতুন করে বড় ধরনের শুল্কযুদ্ধের আশঙ্কাও আপাতত কিছুটা পিছিয়ে গেল।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জিনপিংকে বহনকারী বিমান ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করলে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিমানঘাঁটিতেই তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এভাবে বিমানঘাঁটিতে গিয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনা ১১ বছরের মধ্যে প্রথম।-c44a4d.jpg)
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দুই নেতা ও তাঁদের স্ত্রীদের করমর্দন, কথোপকথন ও ছবি তোলার পাশাপাশি সামরিক আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনা, কামানের গোলা নিক্ষেপ এবং যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে জিনপিংকে স্বাগত জানানো হয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত হোয়াইট হাউজে বিদেশি নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাতেন। এবার ট্রাম্পের বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত হওয়াকে তাই সফরটির প্রতীকী গুরুত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জিনপিংয়ের সফরের আগেই বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে করা চুক্তির আওতায় চলমান বাণিজ্যবিরতি ১০ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। চুক্তিটি দুই দেশের পাল্টাপাল্টি উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।-ecf989.jpg)
চলতি বছর ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের এটি দ্বিতীয় বৈঠক। মে মাসে ট্রাম্প বেইজিং সফর করে জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এবার জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের মধ্য দিয়ে দুই নেতা বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিরল খনিজ, কৃষিপণ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।
তবে বাণিজ্যবিরতি বাড়লেও দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের অবসান হয়নি। তাইওয়ান, প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, এআই এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ বা কমানোর বিষয়ে জিনপিং চাপ দিতে পারেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে জিনপিংয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দুই দেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।![]()