বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ (এসপিআর) থেকে আরও তেল ছাড়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দ্রুত সরবরাহযোগ্য তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এমন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অক্টোবরের সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আগামী ছয় মাসের অগ্রিম সরবরাহ চুক্তির তুলনায় তাৎক্ষণিক সরবরাহের ক্ষেত্রে তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।
রাইট বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে আরও অপরিশোধিত তেল ধার দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসপিআর থেকে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার অনুমোদন দেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৩ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। আরও ৩০ লাখ ব্যারেল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ছাড়ার কথা রয়েছে। প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ ব্যারেল এখনো রিজার্ভে রয়েছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট তেলও ধার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে জানান রাইট। তাঁর ভাষ্য, বাজারে এখনো অতিরিক্ত সরবরাহের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
তাৎক্ষণিক সরবরাহের তেলের দাম ভবিষ্যৎ সরবরাহের চেয়ে বেশি থাকার এই পরিস্থিতিকে বাজারে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ বলা হয়। এতে সরকারি মজুদ থেকে তেল ধার নেওয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঋণদান কর্মসূচিতে কোম্পানিগুলো সরকার থেকে অপরিশোধিত তেল ধার নেয় এবং পরে অতিরিক্ত তেলসহ তা ফেরত দেয়। আগের চুক্তি অনুযায়ী, ধার নেওয়া প্রতি এক ব্যারেল তেলের বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ২৫ ব্যারেল তেল এসপিআরে ফেরত দিতে হবে।
এসপিআর থেকে ধার দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে, যা ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন। রাইট জানিয়েছেন, ধার দেওয়া তেল আগামী বছরের শুরু থেকে ফেরত আসতে পারে। এই ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলবে।![]()