ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির অনুমোদন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিল করায় বুধবার থেকে ভারতীয় ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তবে এসব অনুমোদন বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানায়নি মৎস্য অধিদপ্তর।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সই করা চিঠিতে ১০৩টি এনওসি বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আনার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এসেছে ৫৩৫ টন।
বন্দর-সংশ্লিষ্টরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের সুযোগ থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির পরিমাণ বেড়েছিল। আমদানির কাগজপত্রে প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধের পর এসব মাছ বন্দর দিয়ে খালাস করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রায় ৫০০ টাকা কেজি দরে আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ দেশের বাজারে পদ্মার ইলিশের পরিচয়ে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে। বাজারে ভারতীয় ইলিশকে দেশি ইলিশ হিসেবে বিক্রির অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানাও করা হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতাদের ভাষ্য, ভারতীয় ইলিশের সঙ্গে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের বাহ্যিক মিল রয়েছে। ফলে মাছের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও দেখতে কাছাকাছি হওয়ায় অনেকেই ভারতীয় ইলিশকে দেশি মাছ মনে করে কিনতে পারেন।
আমদানি নিয়ন্ত্রণের পেছনে আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, আমদানি করা ইলিশের সরবরাহ বেড়ে গেলে দেশীয় ইলিশ আহরণে জেলেদের আগ্রহ কমতে পারে। একই সঙ্গে আমদানির সময় পণ্যের প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ করা হলে রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এসব বিষয় নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
হঠাৎ ইলিশ আমদানির অনুমতিপত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন আমদানিকারকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমদানিকারক বলেন, আমদানির উদ্দেশ্যে কেনা ইলিশ ভারতের ওপারে রাখা হয়েছিল। এখন সেগুলো কম দামে ফেরত দিতে হতে পারে। এতে মাছের দামের পাশাপাশি আমদানিসংক্রান্ত খরচও লোকসানে পড়বে।
বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
আমদানি বন্ধের পর বেনাপোলের বাজারেও ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ১০৩টি এনওসি বাতিল হওয়ায় আগে দেওয়া অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি করা যাবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।![]()