ফরিদ উদ্দিন রনি
সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্মার্ট এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন পলিটিশিয়ান বাংলাদেশে হাতেগোনা অল্প কয়জনই ছিলেন এবং ভবিষ্যতে কতজন সেই পর্যায়ে নিজেকে নিতে পারেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাই এখন হয়তো জামায়াত-এনসিপি সমর্থকরা প্রকাশ্যে তার বিরোধীতায় একাট্টা, বাট দিনশেষে তারাও ভালোভাবে এটা রিয়েলাইজ করতে সক্ষম এ সময়ে তার মতো রিসোর্সফুল পলিটিশিয়ান রেয়ার। উপস্থিত বুদ্ধি যতটা শার্প উনার, তার ধারে কাছে অন্য কেউ নাই।
জামায়াতেরই শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা একটা বিয়ের পার্টির খাবার টেবিলে বসে আমাকে এ কথাটা বলেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদের সলিড উপস্থিত বুদ্ধি এবং চিন্তায় শার্পনেস নিয়ে একটা উদাহরণ দিই।
দুদিন আগে ডয়েচে ভেল উনার দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার নেয়।
ইন্টারভিউয়ার শুরু থেকেই আওয়ামী লীগকে নর্মালাইজ করতে ট্রাই করে বাট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো স্পেসই দিলেন না।
শুরুটাই করে জুলাইকে একটা সাধারণ আন্দোলন হিসেবে পোট্রে করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে কারেকশন করে দেন- কেবল আন্দোলন নয়, এটি গণঅভ্যুত্থান ছিল।
এরপর ইন্টারভিউয়ার হাসিনাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করে ক্রয়েশ্চন শুরু করেন এবং আওয়ামী লীগকে সাবেক ক্ষমতাসীন দল হিসেবে প্রেজেন্ট করে।
সালাহউদ্দিন সাহেব উত্তর দেয়ার আগে সেই সাংবাদিককে কারেকশন করিয়ে দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ দল, গণহত্যাকারী গোষ্ঠী। হাসিনা বৈধ কোন সরকার ছিলেন না, সে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে প্রতিরোধের মুখে দেশছেড়ে পালিয়ে গেছে।
ট্র্যাপে ফেলতে ব্যর্থ হয়ে ইন্টারভিউয়ার এক পর্যায় লোডেড ক্রুয়েশ্চন শুরু করে। বাট তাতেও কাজ হয়নি উনাকে ট্র্যাপে ফেলানো।
এ জায়গায় বিএনপির অনেক অভিজ্ঞ নেতাও গুলিয়ে যেত বা সাংবাদিকের ট্র্যাপে পা দিয়ে দিতেন। সালাহউদ্দিন বলে তা হয়নি।
প্রশ্ন করে এভাবে, ছাত্র বা জনগণ যারা মারা গেছেন তাদের হত্যার বিচার হচ্ছে, একইভাবে পুলিশের যারা মারা গেছেন, তাদের হত্যার বিচার হবে কিনা, প্রশ্ন উঠছে।
এ লোডেড ক্রুয়েশ্চনের দুর্দান্ত আন্সার দিলেন সালাহউদ্দিন সাহেব।
কোনটা হত্যাকাণ্ড কোনটা প্রতিরোধে মৃত্যু, তা বুঝতে হবে!
জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর যখন হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, তখন জনতার প্রতিরোধের মুখে ঘাতকদের কেউ কেউ মারা গেছেন। যুদ্ধের ময়দানেই তাদের ফয়সালা হয়ে গেছে।
একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ-পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের প্রশ্ন তোলা হয়েছে? প্রতিরোধে যারা মারা গেছেন তাদের নিয়ে!
এবার আসি আপনি যে পয়েন্টে প্রশ্ন করলেন, সেই পয়েন্টে উত্তরে, জুলাইয়ে কিছু পুলিশ নিহত হয়েছেন তা সত্য। তারা কেন নিহত হয়েছেন? কারণ তারা দেশের জনগণের ওপরে স্বৈরাচারের নির্দেশে গণহত্যা চালাতে গিয়ে প্রতিরোধে মারা গেছেন। জনগণের ওপর গুলি চালানোর বেআইনি আদেশ কেন তারা শুনবেন! মৃত্যুতে তাদের শাস্তি ফয়সালা সম্পন্ন।
বোল্ড আন্সার! আওয়ামী লীগ প্রশ্নে এমন সাহসীক এপ্রোচ বিরোধীদলের কোনো নেতার মধ্যে দেখতে পাবেন না।![]()