বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেও তিনি জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে চান না। বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকেও মানুষের পাশে থেকে সেবা করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি কখনো ভাবেননি যে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ তাঁর সামনে আসবে। দল তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য মনোনীত করেছে এবং এটিকে তিনি মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি হিসেবে দেখছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হব। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করব।’
তিনি বলেন, দায়িত্বের পরিধি যতই বড় হোক, মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সরে যেতে চান না। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকলেও জনগণের কল্যাণ এবং নিজ এলাকার উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, সব সময় জনগণের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকব।’
সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। তাঁরা তাঁর নতুন দায়িত্বের জন্য শুভকামনা জানান এবং ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও এলাকার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
সাংবাদিকদের অভিনন্দনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতি পদে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎটি শুধু অভিনন্দন বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। তিনি তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন।
ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। এ কারণে তাঁকে অভিনন্দন জানাতেই তাঁরা সৌজন্য সাক্ষাতে যান।
সাক্ষাৎকালে সংগঠনের সভাপতি মানিক মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, প্রধান বার্তা সম্পাদক মানিবুল আজাদ, সহসভাপতি মাহবুব আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল লতিফ, প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ও নারীবিষয়ক সম্পাদক মোছা শিউলী বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য নূর তাজমিন, ফরহাদ বিন নূর, মো. নবাব শরীয়তজার, নাসরিন আখতার, ইমরান খান, তাফহিমুল ইসলাম ও আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের উপদেষ্টা মশিউর জোমান, তুহিন সাইফুল্লাহ ও মাহানুর আলমও সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও উঠে আসে। রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক দায়িত্বে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেও তিনি নিজেকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চান না। বরং নতুন দায়িত্বকে তিনি মানুষের জন্য কাজ করার আরও একটি সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি দলের সিদ্ধান্ত এবং মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফলে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনার পাশাপাশি উঠে এসেছে জনসম্পৃক্ত রাজনীতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখার অঙ্গীকার। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে গেলেও মানুষের পাশে থাকার ইচ্ছাই থাকবে তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।![]()