আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু : ‘পিস্তল মহীউদ্দিন’ এর জীবৎকালে আর কোনো রাজনীতিবিদ আগ্নেয়াস্ত্রের পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেননি। তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। যদিও তার মৃত্যুর (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০২) মাত্র একবছর আগে (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০১) আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য ডা. এইচবিএম ইকবাল মালিবাগে বিএনপি’র এক বিক্ষোভ মিছিল লক্ষ্য করে পিস্তলের গুলি ছোঁড়েন, যে ঘটনায় চার জন বিএনপি কর্মী নিহত হয়, তা সত্ত্বেও তিনি ‘পিস্তল ইকবাল’ নামে পরিচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেননি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই কোনো রাজনীতিবিদের পিস্তলের গুলিতে প্রতিপক্ষের কর্মী নিহত হওয়ার একমাত্র ঘটনা, তবুও তার ‘পিস্তল ইকবাল’ অভিধায় ভূষিত হতে না পারা নিতান্তই দু:খজনক।
খেতাব পাওয়া দূরে থাক, ওই ঘটনা ডা. ইকবালকে এখনও তাকে তাড়িয়ে ফিরছে এবং তাকে আদালতে দৌড়াতে হচ্ছে। তবে আরেকজন আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য তার নামের আগে অলঙ্কার হিসেবে ‘পিস্তল’ শব্দটি যুক্ত করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে গফরগাঁও থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব:) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। ২০১২ সালের মে মাসে তিনি তার গাড়ি থেকে বিএনপির বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছিলেন। এ ঘটনার পর তিনি ‘পিস্তল গিয়াস’ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। ডা. ইকবাল ও ক্যাপ্টেন গিয়াসের সৃষ্ট দৃষ্টান্তের কারণে তারা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।
পিস্তল ব্যবহারের সর্বোচ্চ খেসারত দিতে হলো বিএনপির তরুণ রাজনীতিবিদ ইশরাক হোসেনকে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযানে অবতীর্ণ হয়ে পিস্তল প্রদর্শনের খেষারত হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদ হারাতে হলো এই নব্য রাজনীতিবিদকে। আমি নিশ্চিত, ইশরাকের নামের আগেও ‘পিস্তল’ যুক্ত হবে না। কারণ, তিনি তার পিতা ‘সাদেক হোসেন খোকা’র পুত্র হিসেবেই পরিচিত। পিতার কারণেই আজ তিনি সংসদ সদস্য। পিস্তল উঁচিয়ে তিনি তাঁর মরহুম পিতাকে কলঙ্কিত করেছেন, যিনি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
![]()