বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের আওতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এ সুবিধা শুধু ‘বৃহৎ শিল্প’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্দেশনায় ‘বৃহৎ শিল্প’ শব্দের পরিবর্তে শুধু ‘শিল্প’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে স্কিমটির আওতায় আরও বিস্তৃত পরিসরের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ-১ থেকে জারি করা নতুন সার্কুলার লেটারে আগের নির্দেশনার কয়েকটি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। গত জুনে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রি-ফাইন্যান্সিং স্কিম’ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়নসংক্রান্ত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।
স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে অর্থ নিতে পারবে। ব্যাংকগুলো সেই অর্থ গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে পারবে। অর্থাৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য তুলনামূলক কম সুদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগের সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের বিভিন্ন স্থানে থাকা ‘বৃহৎ শিল্প’ শব্দদ্বয়ের পরিবর্তে ‘শিল্প’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আকারের ভিত্তিতে আগের যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা শিথিল হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনের বাইরে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশ পুনরায় অর্থায়ন সুবিধার আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হলেও কারখানা, যন্ত্রপাতি ও বাজার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের জন্য কম সুদের এই অর্থায়ন পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব যাচাই-বাছাই, প্রকল্পের কার্যকারিতা, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। শুধু স্কিমের আওতা বাড়ালেই বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে না; ব্যাংকিং মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপরও ফলাফল নির্ভর করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু, উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়টি সামনে রয়েছে।
![]()