রাজধানীর ভাটারায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উত্তরা বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন। অভিযানের সময় বাড়িটি থেকে মদ, গাঁজা ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার গভীর রাতে ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাড়িতে রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবন ও মাদকের কারবার চলার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনতলা বাড়িটি সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত। বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো। দেশি-বিদেশি অতিথিরা সেখানে রাতযাপন ও বিভিন্ন পার্টির আয়োজন করতেন। বাড়িটি দেখভালের জন্য মাহবুব আলম নামে একজনকে সহ-আয়োজক বা কো-হোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাড়িটিতে ভাড়া নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন পার্টিতে মাদক সেবনসহ নানা কর্মকাণ্ড চলত। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে পাওয়া আয়ের ৭০ শতাংশ আব্দুল্লাহ আল জহিরের অ্যাকাউন্টে জমা হতো বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সোমবার রাতে আয়োজিত পার্টিটিকে জন্মদিনের অনুষ্ঠান হিসেবে দেখানো হলেও মূলত ডিজে পার্টির জন্য বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ আয়োজনের সঙ্গে সাদমান রাফিত, পৌরম গুহ ও নাইমুর রহমান রাহির সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে সূত্রটি। বাড়ির কো-হোস্ট মাহবুব আলমও আয়োজন সম্পর্কে জানতেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ![]()
পার্টির প্রচারে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনে ১৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত হাউস পার্টি ও রেইভ আয়োজনের কথা বলা হয়। বিজ্ঞাপনে অনুষ্ঠানটিকে ব্যক্তিগত ও আমন্ত্রণভিত্তিক আয়োজন উল্লেখ করে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক বলা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপনটিতে আরও দাবি করা হয়, পার্টির স্থানটি পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়ি হওয়ায় সেখানে পুলিশি অভিযানের আশঙ্কা নেই এবং নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন। তবে বিজ্ঞাপনে করা এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার তদন্ত চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ।
![]()