মাজারের গোপন সিন্দুক এবং একজন ‘বেয়াদব’ ডিসির বিদায়!
হেলাল উদ্দিন
অভিনন্দন সিলেট! অভিনন্দন মাজারের অদৃশ্য ক্ষমতার বরপুত্রদের! অবশেষে আপনারা জিতলেন।
মাজারের পবিত্র দানবাক্সের অলৌকিক টাকাগুলোর দিকে চোখ দেয়ার মতো ‘বড় গুনাহ’ করার অপরাধে সিলেটের ডিসি সারোয়ার আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আহা! কী চমৎকার আমাদের সিস্টেম!
ঘটনাটা একটু সহজ করে বুঝুন—হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে সাধারণ মানুষ ভক্তিভরে যে কোটি কোটি টাকা দান করে, যুগের পর যুগ ধরে তার কোনো অডিটেবল বা সরকারি হিসাব রাখার নিয়ম নেই।
কেন থাকবে? ওসব তো আধ্যাত্মিক টাকা! কিন্তু এই ডিসি সাহেব ভুল করে নিজেকে ‘জনগণের সেবক’ ভেবে বসলেন।
তিনি ভাবলেন, মাজারের প্রাচীন ডেগ আর সিন্দুকের টাকার একটা স্বচ্ছ হিসাব থাকা দরকার। খাদেমদের কাছে হিসাব চাইলেন, স্বচ্ছ দানবাক্স বসানোর উদ্যোগ নিলেন।
ব্যস! আধ্যাত্মিক সিন্ডিকেটের গায়ে তো ফোস্কা পড়ারই কথা। তারা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিল—”বাবা সারোয়ার, তুমি ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে বড় বড় কোম্পানির বারোটা বাজাতে পেরেছ ঠিকই।
কিন্তু আমাদের মাজারের সিন্দুকের বারোটা বাজানোর ক্ষমতা তোমার রাষ্ট্রেরও নেই!”
মাঠপর্যায়ের সৎ কর্মকর্তাদের জন্য চমৎকার একটা মেসেজ দেওয়া হলো—”বেশি সৎ হতে যেও না ভাই। টেবিলের নিচে ফাইল চাপা দিয়ে ঘুমাও, প্রমোশন পাবে।
আর যদি বেশি ডাঁট দেখিয়ে দুর্নীতি ধরতে যাও, তবে পোটলা-পুটলি বেঁধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি বা সংযুক্ত হওয়ার জন্য রেডি থাকো।”
সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাস আর ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে যারা পকেট ভারী করছে, তাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না।
তারা ডিসির চেয়েও বেশি শক্তিশালী, কারণ তাদের পেছনে রয়েছে ক্ষমতা ও টাকার এক অদৃশ্য দেয়াল।
সৎ কাজের এই চমৎকার পুরস্কার দেখে আমরা সত্যিই ধন্য! জয় হোক মাজারের সিন্দুক সিন্ডিকেটের, সুশাসন চলুক আল্লাহর ওয়াস্তে!