রাষ্ট্রপতি বদলের গুঞ্জন, আলোচনায় আমলার নাম
আনিস আলমগীর
দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদ ‘রাষ্ট্রপতি’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে গুঞ্জনগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে, তা বেশ ইন্টারেস্টিং। প্রথম আলো, কালের কন্ঠসহ কয়েকটি মিডিয়ায় আজ খবর প্রকাশিত হয়েছে- শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। যদি তাই হয়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নেবেন।
একটি রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছায় এবং পরামর্শে আরেকটি রাজনৈতিক সরকারের নিয়োজিত রাষ্ট্রপতির বিদায় নেওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কোনো রাষ্ট্রপতি যদি সরকারের ইচ্ছা ও পারস্পরিক সমঝোতায় সম্মানের সঙ্গে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন, তবে তা অলিখিত রাজনৈতিক সৌজন্যেরই অংশ হিসেবে দেখা যায়। সেখানে অযাচিত বিতর্ক বা আপত্তির খুব একটা সুযোগ থাকে না।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানের একটি কর্মমুখী সমন্বয় জরুরি, যদিও বিএনপির সঙ্গে বর্তমান রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো বিরোধের খবর শোনা যায়নি। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের ব্যক্তির বিদায় যাতে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং সাংবিধানিক শোভনতা বজায় রেখে হয়, সেটাই জাতি প্রত্যাশা করে।
শোনা যাচ্ছে, তার জায়গায় কোনো অভিজ্ঞ বা অবসরপ্রাপ্ত আমলা আসতে পারেন। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।
এতে করে কয়েকজন অভিমত দিয়েছেন যে, একটি রাজনৈতিক সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন আমলার নাম আলোচনায় আসে কীভাবে? বিএনপির অবস্থা কি এতটাই নাজুক?
আমি মনে করি, এবং ইতিহাসও বলে, রাষ্ট্রপতির পদে আমলা বা সাবেক বিচারকদের মতো প্রশাসনিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বেশ কার্যকর হতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষিত বিবেচনা করলে একজন অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত আমলাকে এই পদে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও বেশ দূরদর্শী কৌশল হতে পারে। তবে ব্যক্তিটি যাতে স্বচ্ছ এবং সৎ হন- সেটাও দেখতে হবে।