মেধা আর সৌন্দর্যের আলটিমেট কম্বিনেশন!
তৌহিদুল আলম অপু
মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়া লেকের শান্ত জলে ভাসছে একটা বোট। আর সেই বোটে হাসিমুখে গল্প করছেন দুই নারী। দেখে হয়তো মনে হবে, দুই পুরনো বন্ধুর জাস্ট একটা আউটিং।
কিন্তু না, এই এক ফ্রেমে আসলে বন্দী আছে দুই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই উত্থান-পতনের গল্প!
একদিকে দাতুক সেরি ডা. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পত্নী , অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পত্নী ডা. জোবাইদা রহমান।
ডা. ওয়ান আজিজাহ তিনি একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। আয়ারল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে গোল্ড মেডেল নিয়ে পাস করেছিলেন তিনি!
মালয়েশিয়ার সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ১৪ বছর সুনামের সাথে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
আমাদের ডা. জোবাইদা রহমান তিনিও কিন্তু পেশায় একজন সফল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে লন্ডনের বিখ্যাত ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে কার্ডিওলজির ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নেন।
একটা মজার বিষয় কি জানেন??
দুজনের কেউই কখনো সরাসরি রাজনীতিতে আসতে চাননি। কিন্তু নিয়তি তাঁদের বাধ্য করেছে পর্দার আড়াল থেকে এসে দলের হাল ধরতে।
১৯৯৮ সালে যখন ওয়ান আজিজাহ-এর স্বামী আনোয়ার ইব্রাহিমকে কারাবন্দী করা হয়, তখন এই গৃহবধূ ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।
গড়ে তোলেন ‘কেয়াদিলান’ পার্টি। মালয়েশিয়ার ইতিহাসে তিনি প্রথম নারী উপ-প্রধানমন্ত্রী হন এবং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে আজ তাঁর স্বামীকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছেন।
ডা. জোবাইদা রহমান-ও সবসময় নিজের ক্যারিয়ার আর সংসার নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বামী তারেক রহমান যখন কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তখন তিনি পর্দার আড়াল থেকে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়ান।
রাজপরিবারের মতো আভিজাত্য আর চরম ধৈর্য্য নিয়ে তিনি প্রতিটা ঝড় মোকাবিলা করেছেন।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন ঝড়-তুফান, জেল-জুলুম আর নির্বাসন পার করে এসে আজকে এই দুই দেশের দুই ‘পাওয়ার কাপল’ নিজেদের টপ পজিশনে নিয়ে গেছেন।
যে নারীরা জীবনের কঠিনতম সময়ে স্বামীদের পাশে পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, আজ তাঁরাই নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এক অনন্য মর্যাদায়।
দুই দেশের দুই মহীয়সী নারীর এই দারুণ মেলবন্ধন সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই পাওয়ারফুল লেডির এই সুন্দর মুহূর্তটি এক নতুন বন্ধুত্বের বার্তা বহন করছে।
বাংলাদেশের একটি অর্ধ উন্মাদ গোষ্ঠী কেন জিয়া পরিবারকে নিয়ে সারাক্ষণ খিস্তি খেউর করত, তা আজকে আরো পরিষ্কার হলো।