নেতিবাচক ‘ক্যারেক্টার প্রোফাইলিং’ ভেঙে মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শাহেদ আলম
একটা পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে ছিলাম আমরা। ৫ আগস্টের পর আমরা আবেগী নামকরণ করেছিলাম ‘ নতুন বাংলাদেশ’নামে। নয়া বন্দোবস্তের কথাও শুনতাম আমরা। কিন্তু পুরাতন আমাদের মগজে এতটাই জেকে বসা ছিল যে ওটা কেবল শব্দচয়নেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আমরা নয়া সময় ঠিকই পেয়েছি ।
গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে প্রথম বড় পরিসরে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের পর একজন প্রথিতযশা সাংবাদিকের সাথে কথোপকথনের হচ্ছিল আমার। প্রথমবারের মত তিনি প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে গেছেন, সম্মানিত হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেই। আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, এই তারেক রহমান একেবারে নতুন তার কাছে। ডাউন টু আর্থ একজন মানুষ ।
– নতুন মনে হতে পারে, তবে তিনি যে অন্যরকম অথবা আগে ভালোছিলেন না এ ধরনের ভাবনাটা কি তার কর্ম দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ছিল নাকি সেটা ছিল গনমাধ্যমের তৈরীকৃত ‘ক্যারেক্টার প্রোফাইলিং’ ? যাদের দ্বারা এ প্রোফাইলিং হয়েছিলেন তিনি, তাদেরকেও তো সম্মানদিয়ে নানা অনুষ্ঠানে, রাষ্ট্রীয়, দলীয় অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিতভাবে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাচ্ছেন মি. রহমান।
আমি যোগ করলাম। তিনি ও স্বীকার করলেন
-হ্যা, আমরা তো এর আগে তাকে এতবড় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেখিনি তাকে, সুতরাং এটা পরিবর্তিত তারেক রহমান নাকি এই তারেক রহমান ই আগের তারেক রহমান, যাকে গনমাধ্যমে চিত্রায়িত করা হয়েছিল নেতিবাচক ভাবে সেটা বলা মুশকিল । তবে এটা ঠিক, আমরা সরকারের সমালোচনা করে যাব। ২০ কোটি মানুষের দেশে, অনিয়ম হবে, খুন খারাবি হবে, বিচার সবসময় সঠিক হবে না, কিন্তু হেড অফ দ্যা গর্ভমেন্ট যদি এমন মানবিক মানুষ থাকেন, রাষ্ট্রের মুখচ্ছবিটাই বদলে যায়, ইতিবাচক হয়।
– সেইটা কি মি. রহমান দেখাতে পারছেন বলে মনে হয়?
– আমি নিজে ত দারুনভাবে আশাবাদী। আমরা কি চাই? আমরা কি চাই যে একজন সুপারম্যান এসে আমাদের সব সমস্যার সমাধান করে দেবেন? সেটা ত হবে না। কিন্তু সরকারের শীর্ষমুখটি এমন চরিত্রের হয়েছে যেটা আমরা এই বাংলাদেশে এর আগে কখনো দেখিনি, স্বপ্নেও ভাবিনি। এটাই সবচে বড় আশার।
সাবেক মাফিয়া সরকারের প্রতিনিয়ত চরিত্রহনন ছিল মি রহমানকে নিয়ে! আশ্চর্য, তারেক রহমান ৪ মাসের অধিককাল ক্ষমতায় থেকে একটি দিনের জন্যও তার বা তার পরিবারের কারোনামে বিষোদগার করেননি! এটাই কি সেই কাঙ্খিত পরিবর্তন বা নতুন বাংলাদেশ নয়?
মালয়শিয়া যাবার পথে বিমানে সাধারণ যাত্রীরা অবলীলায় সেলফি তুলেছে প্রধানমন্ত্রীর সাথে। সেই গল্প আরার বিমানের যাত্রীসেবার ভোগান্তির আগের-আজকের চিক্র নিয়ে পোস্টও লিখছেন যাত্রীরা। পোস্টের ভাষা গুলি অনেকটা এমন ‘বিমানে যাত্রীসেবা আজকে বেশ ভালো, অথচ একসপ্তাহ আগেও এর ভ্রমণে বাজে যাত্রীসেবা পেয়েছি। এটা যাই হোক, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজ আমাদের সাথে ছবি তুলেছেন ‘
বলা চলে কোন বাহুল্য নেই লেখায়। সাধারণ অভিব্যক্তি। অথচ নির্ভয়ে লেখা। এগুলো এর আগে আমরা দেখিনি। এটা কি নতুন বন্দোবস্ত নয়?
একটা সরকার দুধে ধোয়া তুলসীপাতা হয় না। সরকারের কর্তাব্যক্তিরাও তুলসীপাতা নয়। পদে পদে অযোগ্যতার নানা চিত্রও দেখাচ্ছেন অনেকেই, এটাও সত্য। অবশ্য, ৬ মাস না গেলে একটা সরকারের সামগ্রিক মুল্যায়ন ও সম্ভব নয়। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সত্যিই নতুন বাংলাদেশ হয়েছে।
বাংলাদেশের শীর্ষ পদে একজন ‘ডাউন টু আর্থ’ প্রধানমন্ত্রী। যেটা স্বীকার করছেন মি রহমানের মারাত্মক রাজনৈতিক বিরোধিতাকারীও।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ অন্যদের পথ দেখাবে।