একদিনে দুই মাস্টারস্ট্রোক: অপচয়ে লাগাম, রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে অভিযান
বিএনপির সমর্থক হওয়ার প্রয়োজন নেই, কেউ যদি কেবল গত কয়েক মাসে বিএনপি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোই ফলোআপ করে থাকেন, তাহলে তিনি এ সরকারের ওপরে ইমপ্রেসড হতে বাধ্য।
একের পর এক মাস্টারস্ট্রোক হাতে নিচ্ছেন পিএম তারেক রহমান। আজকের দিনের দুটি তাজা সংবাদ শেয়ার করি আপনাদেরকে।
সরকারি কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় টাকায় বিদেশ সফর বন্ধ করা হয়েছে। নিউ আবাসিক, অনবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ বন্ধ করা হয়েছে। তবে চলমান কোনো কাজ যদি ৭০শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে বাকি কাজ সম্পন্ন করবার জন্য কেবল নির্দিষ্ট অর্থ ছাড়া হবে। যতটুকু প্রয়োজন হয়, কেবল ততটুকুই অর্থ পাবে।
প্লাস সরকারি টাকায় গাড়ি কেনা ও সুদমুক্ত ঋণের বাড়তি যে সুবিধা এতোদিন পেতেন, তাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
আগে দেখা যেত, প্রতি বছর অমুকবিষয়ক প্রশিক্ষণ কিংবা তমুকবিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে সরকারি কর্তাদের বিদেশে সফররের হিড়িক লাগতো।
প্রশিক্ষণের নামে দলবেঁধে বিদেশে গেলেও আদতে এসবই থাকে দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বিদেশ ঘুরাঘুরি ও আনন্দ ফূর্তি করা।
বিএনপি সরকার সেটা আর সামনের দিনে হতে দিচ্ছে না। আজ পরিপত্র জারি করার মাধ্যমে অফিশিয়ালি সেই পথ বন্ধ করে দিছেন তারেক রহমান সাহেব।
দ্বিতীয় তাজা খবরটি হলো, ইন্টেরিম সরকার এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসার পর অর্থপাচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ফাইন্ড আউট করতে শুরু করে, কর ফাঁকি দেওয়া বড় বড় রাঘববোয়ালদের সন্ধানে অনুসন্ধানে চালায়, ফাইনালি এ সরকার ১০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে সুনির্দিষ্ট দেওয়ানী মামলা করতে যাচ্ছে।
এই ১০টি বিগফিশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমনসব প্রতিষ্ঠানও আছে যাদের নামে শুনলে চোখ কপালে ওঠবে, কারণ এ সময়ে এতো দ্রুত তারেক রহমান এসব রাঘববোয়ালদের খেপাবেন, এটা কেউ কল্পনাও হয়ত করবেন না।
ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, সরকার কৌশলগত কারণে একটি নাম আপাতত পাবলিক করতেছে না। বাকি ১০টি পাবলিক করে দিয়েছে।
পুরো কাজে লিড করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে। সমন্বয় করতেছে সিআইডি, দুদক ও এনবিআর।
দেশের টাকাপয়সা লুটপাট করা, করফাঁকি দেওয়া দস্যুদের শান্তিতে থাকতে দেবেন না তারেক রহমান, তা-ই বুঝতেছি।