শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬
সঠিক সংবাদের প্রয়াসে
  • হোম
  • বিশ্ব
  • বাংলাদেশ
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউইয়র্ক
  • বিশ্ব
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • খেলা
  • চাকরি
  • মতামত
  • অন্যান্য
No Result
View All Result
সঠিক সংবাদের প্রয়াসে
No Result
View All Result
  • হোম
  • বিশ্ব
  • বাংলাদেশ
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউইয়র্ক
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • খেলা
  • চাকরি
  • মতামত
  • অন্যান্য
প্রচ্ছদ অর্থনীতি

রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব

ইউএসএ বাংলা ডেস্ক - ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৭ আগস্ট ২০২৬
in অর্থনীতি, জাতীয়, বাণিজ্য, বাংলাদেশ
Reading Time: 1 min read
A A
0
রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব

একান্ত সাক্ষাৎকারে কুঞ্জ গ্রুপের চেয়ারম্যান নাছির ইউ মাহমুদ

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: হাফিজ রহমান

দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে যাঁরা আর্থ-সামাজিক অঙ্গনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরই একজন উত্তরা ক্লাব ও বোট ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাছির ইউ মাহমুদ। আত্মপ্রত্যয়ী, দূরদর্শী ও চিন্তা চেতনায় অত্যাধুনিক নাছির ইউ মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর শুরুতে শিক্ষানবীস কর্মকর্তা হিসেবে সিটি ব্যাংক লি. এ যোগদান করেন। খুব বেশিদিন চাকরি করেননি। বেছে নিয়েছেন ব্যবসায়িক জীবন। দেশের আবাসন খাতের এই উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন কুঞ্জ ডেভেলপারস লিমিটেড ও মাহমুদ বিল্ডার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। তিনি লায়নিজম এর সাথেও জড়িত। তিনি ৩১৫ এ-২ এর সাবেক ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান।

বর্তমানে তিনি দেশের অভিজাত ক্লাব পলিটিক্স এর নক্ষত্র হলেও ছাত্র জীবনে ছিলেন ডাকসাইটে ছাত্র নেতা। তিনি এক সময় জাসদ ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্বানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদে প্রথম ক্রীড়া সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ভিপি পদে নির্বাচিত হবার সুযোগ লাভ করেন। প্রথমবার জাসদ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে হলেও জিএস হয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেল থেকে।

বৃহত্তর বরিশাল ঝালকাঠির কৃতি সন্তান নাছির ইউ মাহমুদ এর পিতা হারুনার রশিদ ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যিনি পুলিশের এসপি হিসেবে অবসর নিয়েছিলেন এবং মা জেবুন্নেছা বেগম ছিলেন সুগৃহিণী।

ব্যবসায়িক জীবনে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না হলেও আওয়ামী লীগ আমলে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে নানাভাবেই হয়রানির শিকার হন। এমনকি ক্লাব পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তাও কাল হয়ে দাঁড়ায়। তাঁকে নানা মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়। সমাজ সেবক এবং দেশের অভিজাত ক্লাব রাজনীতির অন্যতম তারকা ব্যক্তিত্ব নাছির ইউ মাহমুদ সম্প্রতি খোঁজখবরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বলেন, তা এখানে উপস্থাপন করা হলো :

খোঁজখবর: জনাব নাছির ইউ মাহমুদ-আপনি দেশের অভিজাত ক্লাব উত্তরা ক্লাব ও ঢাকা বোট ক্লাব-এর সাবেক সভাপতি, দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কুঞ্জ ডেভেলপারস লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং একজন কৃতী ফুটবলার। আপনার      শৈশব, পরিবার ও ছাত্রজীবন সম্পর্কে   জানতে চাচ্ছি।

নাছির ইউ মাহমুদ: আমার জন্ম একটি দেশপ্রেমিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনার রশিদ ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি পুলিশ সুপার (এসপি) পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৭১ সালে তিনি পটুয়াখালী কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের সংগঠক সরদার বাবুলসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে থানার মালখানা খুলে অস্ত্র সরবরাহ করেন। এ ঘটনার পর তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর সাহসিকতা আজও দেশের জন্য গর্বের বিষয়।

বাবার চাকরি ছিল বদলিজনিত। কিন্তু আমাদের লেখাপড়ার যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। ঘন ঘন স্কুল পরিবর্তন করলে পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে-এই চিন্তা থেকেই তিনি আমাদের কর্মস্থলে না রেখে বরিশালে আমাদের বাসায় রেখে দেন।

নানার অভিভাবকত্বে আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। সেখান থেকেই আমি বরিশাল জেলা স্কুলে পড়াশোনা করি এবং ১৯৭৬ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। স্কুলজীবন থেকেই খেলাধুলার প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আমাকে মাঠে নিয়মিত টেনে নিয়ে যেত। পরবর্তীকালে ফুটবলই আমার ছাত্রজীবনের অন্যতম পরিচয় হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে একজন কৃতী ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করি।

ক্লাস এইটে পড়াকালীন বরিশাল প্রথম ফুটবল লীগে খেলার সুযোগ পাই। সেই সময় থেকেই খেলাধুলা আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

১৯৭৫ সালে ঢাকার শান্তিনগর ক্লাবে আমার যাতায়াত শুরু হয়। এরপর ১৯৭৬ সালে ঐতিহ্যবাহী ওয়ারী ক্লাবে যোগ দিই এবং ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত একটানা খেলি। আমরা তখন শক্তিশালী ‘জায়ান্ট কিলার টিম’-এর অংশ ছিলাম। দলে ছিল তারুণ্যে উদ্দীপ্ত ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়। বড় বড় দলের বিপক্ষে খেলতে নামলে আলাদা আত্মবিশ্বাস ও সম্প্রীতির সৃষ্টি হতো, আর জয় পেলে আনন্দের সীমা থাকত না।

তবে সেই সময়ের খেলার পরিবেশ আজকের মতো ছিল না। মাঠ ছিল উঁচু-নিচু ও কাদাযুক্ত, আর ব্যবহৃত বল ছিল নিম্নমানের। ১৯৮৩ সালে একটি গুরুতর ইনজুরিতে পড়ার পর নিয়মিত ফুটবল খেলা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসি।

আমি ১৯৭৭-৭৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। ১৯৭৯ সালে দীর্ঘ বিরতির পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তখন আমি জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ফার্স্ট ডিভিশনের ফুটবলার হওয়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না ভাই আমাকে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে উৎসাহিত করেন। মান্না ভাই আমার মামার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং আমাকে ভাগিনা হিসেবে স্নেহ করতেন। নির্বাচন করার ব্যক্তিগত ইচ্ছা না থাকলেও তাঁর অনুরোধে প্রার্থী হই এবং সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হই।

সম্পর্কিত

দুই দশকের সাংবাদিকতা পেরিয়ে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

১৯৮০ সালে আমি আর নির্বাচনে অংশ নিইনি। সে সময় আমরা জাসদ ছাত্রলীগ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করি। এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন স্যার, যিনি স্যার সলিমুল্লাহ হলের হাউস টিউটর ছিলেন।

সে সময় মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে আসেন। তখন তৎকালীন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্যারের মাধ্যমে আমরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাই। তাঁর আন্তরিক আচরণ, বিনয় ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে। তিনি নিজ হাতে আমাদের খাবার পরিবেশন করেছিলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিকতার  সঙ্গে আলোচনা করেন। সেই সময়ে আমরা জাসদ ছাত্রলীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী একযোগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করি। আমাদের সঙ্গে যোগ দেন ফজলুল হক হলের ভিপি ওমর ফারুক ভূঁইয়া, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনসহ আরও অনেক ছাত্রনেতা। পরবর্তীতে ১৯৮১-৮২ সালের ডাকসুর নির্বাচনে আমি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হই। সে সময় হলে বাসদ ছাত্রলীগের ব্যাপক প্রভাব ছিল। ওই নির্বাচনে হল সংসদের ১২টি পদের মধ্যে ভিপিসহ বাসদ ছাত্রলীগ ১১টিতে বিজয়ী হলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে একমাত্র আমি জিএস পদে নির্বাচিত হই।

স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল আমাকে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের প্রভোস্ট ছিলেন পরবর্তী সময়ের মহামান্য রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ স্যার। এ হলে আবুল কাশেম চৌধুরী, বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শামসুজ্জামান দুদু, ফকির আবুল কালাম আজাদ, খায়রুজ্জামান বতু, শাহ আহমেদ বাদলসহ ছাত্রদলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে  মেশার সুযোগ হয় এবং তারা সবাই এসএম হলে থাকতেন।

সে সময় ছাত্রদল নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তির আমন্ত্রণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একাধিকবার স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে এসেছিলেন। তৃপ্তি ছিল আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। তারেক রহমান এলে তৃপ্তি তাকে আমার রুমে বসাতেন। কারণ আমার রুমে ছিল সিঙ্গেল সিট। তৃপ্তির রুম ছিল ফোর সিটেড। এজন্য আমার রুমে নিয়ে বসাতেন। তখন থেকেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আমার পরিচয় ঘটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর এসএম হলে এটাচড ছিলেন। এটাও এসএম হলের জন্য গৌরবের বিষয়, আমাদের জন্যও।

খোঁজখবর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের মধ্যে ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে। এ ধরনের কোনো স্মরণীয় ঘটনার কথা বলবেন?

নাছির ইউ মাহমুদ: এ প্রসঙ্গে একটি স্মৃতির কথা না বললেই নয়। আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, তখন ফার্স্ট ডিভিশন ফুটবল লীগে খেলতাম। ভর্তি ফরমে হল হিসেবে প্রথমে ফজলুল হক হলের নাম লিখেছিলাম। কারণ, আমাদের সয়েল সায়েন্স বিভাগের ক্লাস হতো সায়েন্স বিল্ডিংয়ে এবং বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থী তখন ফজলুল হক হল ও শহীদুল্লাহ হলে থাকতেন। তাদের সঙ্গে থাকলে একাডেমিক আলোচনা ও পড়াশোনায় সুবিধা হতো।

সে সময় সয়েল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান, পরবর্তীকালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ স্যার ছিলেন এসএম হলের প্রভোস্ট। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, ‘তোমাকে এসএম হলেই থাকতে হবে।’ আমি কারণ ব্যাখ্যা করে বললাম, ফজলুল হক হলে থাকলে পড়াশোনা ও খেলাধুলা-দুটোই সামলানো সহজ হবে। কিন্তু স্যার বললেন, ‘তোমার পড়াশোনার দায়িত্ব আমি নিলাম। তোমাকে এসএম হলে যেতে হবে, কারণ হলের ফুটবল দলকে শক্তিশালী করতে হবে।’

পরে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। শেষ পর্যন্ত স্যারদের অনুরোধে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে এসএম হলেই ভর্তি হই।

হলে ওঠার এক বছর পর, ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টে আমাদের প্রথম ম্যাচ পড়ে সূর্যসেন হলের বিপক্ষে। তাদের দল ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রথম একাদশের ১১ জনের মধ্যে ১০ জনই জাতীয় দলের খেলোয়াড়। স্বাভাবিকভাবেই আমরা কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম।

আমি ইয়াজউদ্দিন স্যারকে বললাম, নতুন জার্সি ও বুটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে হবে। প্রথমে তিনি বললেন, ‘ওদের সঙ্গে নকআউট সিস্টেমে পারবে না, এত খরচের প্রয়োজন নেই।’ আমি জবাব দিলাম, ‘জিতি বা হারি, এসএম হলের জার্সি গায়েই মাঠে নামতে চাই।’ আমার কথায় তিনি রাজি হয়ে ১০ হাজার টাকা দিলেন।

প্রতিপক্ষ দল সূর্যসেন হলের টিম আবাহনীর চুন্নু, আনোয়ার এবং গোলরক্ষক মঈনসহ জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। ম্যাচের আগে চুন্নুর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, ‘তোমরা যদি শুরু থেকেই সর্বশক্তি নিয়ে খেলো, তাহলে আমাদের জন্য খুব কঠিন হবে।’ সে হেসে বলেছিল, ‘সামনে জাতীয় দলের খেলা। অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেব না। তোমরা খেলো, আমরা সতর্ক থাকব।’

ম্যাচে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে লড়াই করি। পুরো দল অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও কৌশলের সঙ্গে খেলেছিল। শেষ পর্যন্ত সবাইকে অবাক করে আমরা সূর্যসেন হলকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিই। এরই ধারাবাহিকতায় অন্য দলকেও হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্য হয়।

সেই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় ছিল না; এটি ছিল এসএম হলের জন্য গর্বের মুহূর্ত। প্রভোস্ট ইয়াজউদ্দিন স্যার, হলের শিক্ষার্থী এবং আমাদের পুরো দল আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিল। আজও সেই স্মৃতি আমার জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন হয়ে আছে।

খোঁজখবর: আপনি ছাত্রজীবনে একজন আলোকিত ফুটবলার ছিলেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাচ্ছি।

নাছির ইউ মাহমুদ: আমি মনে করি, এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করার কোনো বিকল্প নেই। শহীদ  প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সত্যিকার অর্থেই একজন ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবান্ধব রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তাঁর উদ্যোগে থানা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় এবং সংস্কৃতিকর্মীদের বাছাই ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। ‘নতুন কুঁড়ি’সহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে অসংখ্য প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরী পরবর্তীকালে দেশের খ্যাতিমান শিল্পী ও ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

আশার বিষয়, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন একজন সাবেক ফুটবলারের হাতে। যা অত্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আমরা দেখেছি, অতীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। এখন একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার তামিম ইকবাল বিসিবির নেতৃত্বে রয়েছেন। একজন ক্রীড়াবিদই সবচেয়ে ভালো বোঝেন খেলাধুলার বাস্তব সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়। আমি মনে করি, ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলারও মানোন্নয়ন হবে।

খোঁজখবর: আপনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। বর্তমানে আপনার দল রাষ্ট্রক্ষমতায়। আবার কি সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে? পাশাপাশি দেশের অভিজাত ক্লাবগুলোর বিষয়ে কিছু বলুন।

নাছির ইউ মাহমুদ: দেখুন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী ছাত্রলীগ করিনি। গত প্রায় ১৭ বছর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও রাজনৈতিক অঙ্গন একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। সে সময় রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আমি হতাশ ছিলাম। মনে হতো, দেশে হয়তো আর সুস্থ ধারার রাজনীতি ফিরে আসবে না। নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে আমাদের মতো মানুষের জন্য রাজনীতি করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল।

আমার বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠিতে। আমার চাচা একাধিকবার ঝালকাঠি পৌরসভার তৎকালীন নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। আমিও কয়েকবার এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তৎকালীন পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি।

এখন নানা কারণে দলীয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে রাজনৈতিক পরিচয় অপরিহার্য নয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সেবার মানসিকতা থাকলে সমাজের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব। ধারাবাহিকভাবে কাজ করলে মানুষ নিজ থেকেই সেই অবদানকে মূল্যায়ন করে। ঢাকার অভিজাত ক্লাবগুলোর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমি তিনবার উত্তরা ক্লাবের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলাম এবং একবার এডমিনের দায়িত্ব পালন করেছি। দায়িত্বে থাকাকালীন অবস্থায় ক্লাবটির অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছি। ক্লাবটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্লাবে পরিণত করেছি।

ঢাকা বোট ক্লাব প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমি যুক্ত ছিলাম। প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের সাতজনের আমি একজন। বোট ক্লাবের আমি প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এ ক্লাবের উন্নয়নে আমি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছি।

খোঁজখবর: দেশের অভিজাত ক্লাবগুলো সম্পর্কে অনেকের মধ্যেই নানা ধরনের ধারণা রয়েছে। আপনি উত্তরা ক্লাব ও ঢাকা বোট ক্লাবের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ক্লাব সংস্কৃতি ও এর সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

নাছির ইউ মাহমুদ: অনেকেই মনে করেন ক্লাব মানেই বিলাসিতা।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। একটি আধুনিক ক্লাবের মূল ভিত্তি হলো শৃঙ্খলা, নিয়ম-নীতি এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ। এখানে কোনো ব্যক্তি যতই ক্ষমতাবান হোন না কেন, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

একবার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি লুঙ্গি পরে ক্লাবে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, এটি আমাদের জাতীয় পোশাক। কিন্তু ক্লাবের নির্ধারিত ড্রেস কোড থাকায় নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে প্রবেশের অনুমতি দেননি। একইভাবে কোনো ভিআইপি বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করতে পারেন না। সবার জন্য একই নিয়ম। ক্লাবে প্রবেশের পর সদস্য নিজেকে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন। অন্যের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি তারা গুরুত্ব দেন। ক্লাব শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়, এটি পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার একটি উৎকৃষ্ট ক্ষেত্র।

ফ্যামিলি ক্লাব হিসেবে এখানে স্বামী-স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে সময় কাটান। পাশাপাশি ইনডোর-আউটডোর খেলাধুলা, ব্যায়াম, সুইমিংসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ রয়েছে, যা সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-ক্লাব বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও

পারস্পরিক যোগাযোগের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম। এখানে

বিচারপতি, আইনজীবী, সামরিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তা, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, ব্যাংকার, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হন। ফলে পারস্পরিক পরিচিতি, সৌজন্যবোধ এবং সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা ব্যক্তি ও সমাজ-উভয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। আমি মনে করি, একটি ক্লাব শুধু অবসর বা বিনোদনের স্থান নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা, সুস্থ জীবনচর্চা এবং সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

খোঁজখবর: ক্লাব ছাড়া আপনি আর কোন কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত?

নাছির ইউ মাহমুদ: উত্তরা ক্লাব ও ঢাকা বোট ক্লাবের বাইরে আমি গুলশান ক্লাব, বনানী ক্লাব,  বারিধারা ক্লাব, গুলশান নর্থ ক্লাব, চিটাগাং ক্লাব, বরিশাল ক্লাব এবং সিলেট ক্লাবের সদস্য। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বিভাগীয় অ্যালামনাই, হল অ্যালামনাই, জেলা সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণের সুযোগ হয় এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়।

খোঁজখবর: আপনার সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

নাছির ইউ মাহমুদ: বাংলাদেশে এখনো অনেক মানুষ দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কঠিন জীবনযাপন করেন। বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের মানুষ এবং বন্যাদুর্গত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে উত্তরা ক্লাবের পক্ষ থেকে নিয়মিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ক্লাবের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আমাদের প্রায় ৩০০ জন কর্মচারীর কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল কর্মীদের সহযোগিতা করা, তাদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কল্যাণমূলক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে আমরা আমাদের সামাজিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করি।

খোঁজখবর: আপনি একজন সচেতন সামাজিক ব্যক্তিত্ব। দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে টকশোতে আলোকপাত করেন। আপনার দৃষ্টিতে দেশের সামাজিক অঙ্গনে প্রধান সমস্যা কি?

নাছির ইউ মাহমুদ: বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক সমস্যা হলো মাদক। এর ভয়াবহ থাবায় দেশের তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই সংকট থেকে রক্ষা করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন ক্লাবের পক্ষ থেকে সামাজিক সচেতনতামূলক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করি। নিয়মিত সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করি। কোনো স্থানীয় সংগঠন যদি এ ধরনের কার্যক্রমে আমাদের সহযোগিতা চায়, আমরা যথাসাধ্য সহায়তা করি।

তবে আমি মনে করি, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আরও কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। আমরা দেখছি, বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত দেশে মাদক প্রবেশ করছে। যাদের এ দায়িত্বে থাকার কথা, তাদের আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের পরিচিত কারও পরিবারে যদি মাদকের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আমরা কাউন্সেলিং করি, প্রয়োজনে পুনর্বাসন (রিহ্যাবিলিটেশন) কেন্দ্রে ভর্তি করাতে সহযোগিতা করি এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকি।

আরেকটি বিষয় হলো, অনেক পরিবার বিভিন্ন সমস্যার কারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন পেশা ও পর্যায়ের মানুষ থাকায় প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হয়। এই সামাজিক নেটওয়ার্ক অনেক সময় মানুষের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

খোঁজখবর: অনেকের ধারণা, অভিজাত ক্লাবগুলোর ‘ক্লাব কালচার’ বলে একটি কথা রয়েছে। এই ক্লাব কালচারের বৈশিষ্ট্য কী?

নাছির ইউ মাহমুদ: অভিজাত ক্লাবের মূল দর্শন হলো শৃঙ্খলা, সামাজিকতা ও সুস্থ বিনোদনের সমন্বয়। উত্তরা ক্লাবসহ দেশের অন্যান্য অভিজাত ক্লাবে জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজন করা হয়। প্রতি মাসেই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, পারিবারিক মিলনমেলা, ডিনার, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন সদস্যদের জন্য একটি আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানুষ কাজের চাপে পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে না। অনেকেরই গান শোনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার সুযোগ হয় না। ক্লাবের এসব আয়োজন সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করে। সদস্যরা পরিবার-পরিজন নিয়ে একত্রিত হন, আনন্দ ভাগাভাগি করেন, পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় এবং মানসিক প্রশান্তি লাভ করেন। এটি এক ধরনের সুস্থ রিক্রিয়েশন, যা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া নববর্ষ উদযাপন, পিঠা উৎসব, বার্ষিক পিকনিক, ঈদ পুনর্মিলনীসহ বিভিন্ন উৎসব অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়। জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়। সব মিলিয়ে ক্লাব কালচার হলো সুস্থ সামাজিক বন্ধন, সংস্কৃতিচর্চা এবং পারিবারিক মূল্যবোধকে লালন করার একটি ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম।

খোঁজখবর: সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে, অভিজাত ক্লাবে সদস্য হওয়া বা সেখানে সময় কাটানো শুধুই বিত্তবানদের বিলাসিতা ও অর্থের অপচয়। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

নাছির ইউ মাহমুদ: আমি এই ধারণার সঙ্গে একমত নই। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি অপচয় নয়, সাশ্রয়ী বলা যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পরিবার নিয়ে গুলশানের কোনো মানসম্মত রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গেলে যে ব্যয় হয়, একই মানের খাবার ক্লাবে তুলনামূলক অনেক কম খরচে পাওয়া যায়।

এর কারণ হলো, ক্লাব কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। সদস্যদের মাসিক চাঁদা ক্লাবের প্রধান আয়ের উৎস। অধিকাংশ ক্লাবের নিজস্ব অবকাঠামো থাকায় ভাড়ার অতিরিক্ত ব্যয় থাকে না। ফলে খাবারের মূল্য সাবসিডাইজড হয়। বাইরে যেখানে একটি খাবারের জন্য এক হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে, সেখানে ক্লাবে একই মানের খাবার ৭০০-৮০০ টাকা বা কখনো তারও কম মূল্যে পাওয়া যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্লাবগুলো স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্যের মান রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর। পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম অঙ্গীকার।

এছাড়া ক্লাবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান ও অন্যান্য বিনোদনমূলক আয়োজন সদস্যরা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই উপভোগ করতে পারেন। এসব অনুষ্ঠানের ব্যয় অনেক সময় বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা শুভানুধ্যায়ীরা স্পন্সর করে থাকেন। তাই আমার দৃষ্টিতে অভিজাত ক্লাব কেবল বিলাসিতা নয়; বরং এটি সুস্থ সামাজিকতা, সংস্কৃতিচর্চা এবং অনেক ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী পারিবারিক বিনোদনের একটি সুন্দর মাধ্যম।

খোঁজখবর: বোট ক্লাব সম্পর্কে জানতে চাই।

নাছির ইউ মাহমুদ: বোট ক্লাব প্রতিষ্ঠার ধারণা আসে চট্টগ্রামে নৌবাহিনী পরিচালিত একটি সুন্দর বোট ক্লাব দেখে। ক্লাবটি আকারে ছোট হলেও পরিবেশ ও পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা কয়েকজন ঢাকার তুরাগ নদীর তীরে একটি বোট ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিই।

জায়গা কেনার পর প্রথমেই আমরা ড্যাপ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতায় পড়ি। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেই সমস্যার সমাধান করি। এরপর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব তিনজনের ওপর অর্পণ করা হয়, যার মধ্যে আমিও ছিলাম।

অন্যান্য ক্লাবের সঙ্গে বোট ক্লাবের প্রধান পার্থক্য হলো-বেশিরভাগ ক্লাব শহরের ভেতরে অবস্থিত, আর বোট ক্লাব নদীর তীরে, খোলামেলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে। যদিও এটি শহরের খুব কাছেই। আমাদের দূরদৃষ্টি ছিল, ভবিষ্যতে বেড়িবাঁধের পাশ দিয়ে ৬ থেকে ৮ লেনের সড়ক নির্মাণ হলে এ এলাকার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। ইতোমধ্যে সেই উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলেছে।

বর্তমানে আমাদের নিজস্ব জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১২ বিঘা। আরও আড়াই বিঘা জমির চুক্তি হয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত সাড়ে ৫ বিঘা জমি লিজ পেয়েছি। ভবিষ্যতে এখানে একটি আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে খেলাধুলা, উন্মুক্ত পরিবেশে বিনোদন এবং পারিবারিক অবকাশ যাপনে সবকিছুর ব্যবস্থা থাকবে। আমি সভাপতি থাকাকালে নদীর পাড়ে একটি গার্ডেন রেস্টুরেন্ট করেছি, একটি জেটি করেছি এবং টুরিস্ট জাহাজ রয়েছে যেখানে ১৮-২০ জন ওঠা যায়। সেখানে আবাসনের জন্য বেডরুম রয়েছে। আমার দায়িত্ব পালনকালে আমরা বড় জাহাজ নিয়ে চাঁদপুরের মেঘনা নদী পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি।

শীতকালে দুই-তিন মাস পানির স্তর কিছুটা কম থাকলেও বছরের বাকি সময় বড় বড় কার্গো জাহাজ এ নদীপথে চলাচল করে। আমি মনে করি চট্টগ্রামের পর সিভিল পাবলিকের জন্য এটি দেশের সেরা ক্লাব। বর্তমানে এখানে প্রায় ১০টি  স্পেশাল কক্ষ রয়েছে। এখানে অবস্থান করলে মনে হয় যেন নদীতে ভাসমান কোনো জাহাজে রয়েছি। ভবিষ্যতে নতুন ভবনে ৮০টি কক্ষ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নগরজীবনের কোলাহল থেকে দূরে একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

খোঁজখবর: বিদেশি নাগরিকরাও কি এখানে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন?

নাছির ইউ মাহমুদ: অবশ্যই। বাংলাদেশের প্রায় সব অভিজাত ক্লাবেই বিদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যারা ব্যবসা বা পেশাগত কারণে এক বা দুই বছরের জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করেন, তারা নির্ধারিত নিয়ম ও ফি পরিশোধের মাধ্যমে সদস্য হওয়ার সুযোগ পান। ইতোমধ্যে অনেক বিদেশি নাগরিক   বিভিন্ন ক্লাবের সদস্য হয়েছেন এবং নিয়মিত এসব সুবিধা উপভোগ করছেন।

খোঁজখবর: আপনারা অভিজাত ক্লাবসমূহ ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো সংগঠন করেছেন কি?

নাছির ইউ মাহমুদ: আমরা ফেডারেশন অব ক্লাবস অব বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন গঠন করেছি। যদিও এর কার্যক্রম এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি; ঢাকা ক্লাবের নেতৃত্বে এটি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই ফেডারেশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ক্লাবের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। একসময় ক্লাব বলতে মূলত ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবের মতো কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকেই বোঝানো হতো। ঢাকার বাইরে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত সিলেট স্টেশন ক্লাব, বরিশাল ক্লাব ও চিটাগাং ক্লাব দেশের প্রাচীনতম ক্লাবগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব ক্লাবের বয়স দেড়শ বছরেরও বেশি। মূলত ব্রিটিশদের হাত ধরেই আমাদের দেশে ক্লাব সংস্কৃতির সূচনা হয়। ঢাকা ক্লাবের বয়স প্রায় ১২০ বছর, আর বরিশাল ক্লাব প্রায় ১৬০ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে।

ঢাকা শহরের অন্যান্য ক্লাবকে বলা হয় লোকাল ক্লাব। একটি ক্লাবের সদস্য হয়ে অন্য লোকাল ক্লাবের সুবিধা নিতে পারব না। তবে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর সদস্যরা পারস্পরিক সুবিধা ভোগ করতে পারেন। ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হলে ক্লাবগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে, সরকার উপকৃত হবে এবং পারস্পরিক সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

খোঁজখবর: ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই ঋণখেলাপি-এমন একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

নাছির ইউ মাহমুদ: আমাদের দেশে প্রায় সব ব্যবসায়ীকে একসঙ্গে ঋণখেলাপি বলার একটি প্রবণতা রয়েছে, যা সঠিক নয়। ঋণগ্রস্ত আর ঋণখেলাপি এক বিষয় নয়। ব্যবসা পরিচালনার জন্য ঋণের প্রয়োজন হবেই। তাই অনেক ব্যবসায়ী ঋণগ্রস্ত হলে তারা নিয়মিত কিস্তি শর্ত অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ করেন। যারা নির্ধারিত সময় বা শর্ত অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তারাই ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন।

অনেক সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দা, সামাজিক পরিস্থিতি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়েন। আমি নিজেও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে আমার ১৯টি প্রকল্পের ফ্ল্যাট এখনো বিক্রি হয়নি। তাই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সব ব্যবসায়ীকে একই দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়।

খোঁজখবর: বর্তমানে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের কথা শোনা যাচ্ছে-সরকার প্রধান হিসেবে একই ব্যক্তি দুবারের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

নাছির ইউ মাহমুদ: আমার দৃষ্টিতে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। নেতৃত্বে দীর্ঘদিন একই ব্যক্তি থাকলে ক্ষমতা

এককেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। রাষ্ট্র

পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অনেকের মধ্যেই এমন ধারণা তৈরি হয় যে, তারাই সব জানেন। কিন্তু বাস্তবে নতুন চিন্তা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। নেতৃত্বে পরিবর্তন হলে নতুন প্রজন্মের মেধাবী ও প্রতিভাবান মানুষ দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবেন। বর্তমান সময়ের তরুণদের অনেকেই আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন। তাদের নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি সেই জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তা দেশের উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

খোঁজখবর: একজন আবাসন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনের প্রধান সমস্যাগুলো কী বলে আপনি মনে করেন? এসব সমস্যা সমাধানে আপনার প্রস্তাবনা কী?

নাছির ইউ মাহমুদ: দেখুন, একজন মানুষের যেমন স্বপ্ন থাকা প্রয়োজন, তেমনি একটি দেশ ও জাতির সুদূরপ্রসারী ভিশন থাকা প্রয়োজন। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও সুসংহতভাবে গ্রহণ করা উচিত ছিল। আগামী ৫০ বা ১০০ বছরে দেশ কীভাবে এগোবে, কী কী সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে-এসব বিষয়ে একটি ধারাবাহিক জাতীয় পরিকল্পনা থাকা জরুরি ছিল। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ঘাটতি রয়েছে, যা উন্নয়নের অন্যতম দুর্বলতা।

বর্তমানে বেসরকারি উদ্যোগে শিল্পায়নের বিকাশ ঘটছে, তবে এ খাতে এখনো নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা শিল্পায়নের বড় অন্তরায়। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উপযুক্ত জমি, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ, উন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা অপরিহার্য। এসব মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত না হলে কাক্সিক্ষত শিল্পায়ন সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি।

খোঁজখবর: আপনি কি মনে করেন, সরকারের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা গেলে দেশের অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব?

নাছির ইউ মাহমুদ: অবশ্যই। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের ওপরই ন্যস্ত। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। যেমন একজন ট্রেনচালক বা

গাড়িচালককে দায়িত্বশীলতা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। সামান্য ভুল বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তাই জনগণের নির্বাচিত সরকারের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চাই গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য। একই সঙ্গে আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং সামাজিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করে। সুতরাং একটি উন্নত, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই।

খোঁজখবর: দেশ ও বিদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে কী কী পার্থক্য লক্ষ করেন?

নাছির ইউ মাহমুদ: আমাদের দেশের অধিকাংশ চিকিৎসক অনেক সময় রোগীর কথা বিস্তারিত না শুনেই একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেন। পরে রিপোর্ট দেখে খুব সংক্ষিপ্তভাবে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। কিন্তু একজন রোগী যদি তার সমস্যাগুলো চিকিৎসকের কাছে খোলামেলাভাবে তুলে ধরার সুযোগ না পান, তাহলে তার মধ্যে সন্তুষ্টি আসে না। তখন তার মনে হয়, চিকিৎসক হয়তো যথেষ্ট মনোযোগ দেননি।

আমার নিজেরও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেখেছি, চিকিৎসকরা রোগীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে প্রশ্ন করেন এবং রোগীর পূর্ণ ইতিহাস জানার চেষ্টা করেন। শুরুতে বিষয়টি কিছুটা বিরক্তিকর মনে হলেও পরে বুঝেছি, রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এমনটি করেন। আমি মনে করি, আমাদের দেশের চিকিৎসকদেরও রোগীর সঙ্গে আরও সময় নিয়ে কথা বলা এবং মানবিক আচরণ করা উচিত।

খোঁজখবর: একজন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা হিসেবে দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি আপনার কমিটমেন্ট কী? করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমে কুঞ্জ গ্রুপ কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়?

নাছির ইউ মাহমুদ: আমি বিশ্বাস করি, যার ব্যবসা, শিল্প বা সম্পদ রয়েছে, তার সমাজ ও দেশের প্রতি একটি নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। কুঞ্জ গ্রুপ আবাসন শিল্পে ফ্ল্যাট তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমি মনে করি, একজন উদ্যোক্তার প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার উদ্যোগ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখে।

শেয়ারTweetPin

সম্পর্কিতপোস্ট

Cyclone Remal
বাংলাদেশ

ঘূর্ণিঝড় রিমালে ২ জন নিহত

২৬ মে ২০২৪
জাস্টিন ট্রুডোর ভুয়া জন্মসনদ প্রস্তুতকারী পাবনায় গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ

জাস্টিন ট্রুডোর ভুয়া জন্মসনদ প্রস্তুতকারী পাবনায় গ্রেপ্তার

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

সর্বশেষ

দুই দশকের সাংবাদিকতা পেরিয়ে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন

দুই দশকের সাংবাদিকতা পেরিয়ে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৭ আগস্ট ২০২৬
0

0

রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব

রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৭ আগস্ট ২০২৬
0

0

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৫ আগস্ট ২০২৬
0

0

ইতালির আরেজ্জো সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাসেল আহমেদকে গণসংবর্ধনা

ইতালির আরেজ্জো সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাসেল আহমেদকে গণসংবর্ধনা

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৫ আগস্ট ২০২৬
0

0

usa bangla logoo

সঠিক সংবাদ সবার আগে পেতে ইউ এস এ বাংলার সাথেই থাকুন!
ইউ এস এ বাংলা সারা বিশ্বে বাংলার মুখ!

Follow us on social media:

ইউএসএ বাংলা নিউজ
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : জালাল আহমেদ।
সম্পাদক : রাজু আলীম 

  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • লিখতে চাইলে
  • যোগাযোগ

বিভাগ

  • English News
  • অন্যান্য
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • চাকরি
  • জাতীয়
  • নিউইয়র্ক
  • প্রযুক্তি
  • বাণিজ্য
  • বাংলাদেশ
  • বিনোদন
  • বিশ্ব
  • ভারত
  • মতামত
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • রাজনীতি
  • শিক্ষা
  • সাফল্য
  • সারাদেশ
  • সাহিত্য
  • সুস্বাস্থ্য

সর্বশেষ

দুই দশকের সাংবাদিকতা পেরিয়ে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন

দুই দশকের সাংবাদিকতা পেরিয়ে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন

৭ আগস্ট ২০২৬
রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব

রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব

৭ আগস্ট ২০২৬
  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • লিখতে চাইলে
  • যোগাযোগ

© 2026 JNews - Premium WordPress news & magazine theme by Jegtheme.

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • হোম
  • বিশ্ব
  • বাংলাদেশ
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউইয়র্ক
  • বিশ্ব
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • খেলা
  • চাকরি
  • মতামত
  • অন্যান্য

© 2026 JNews - Premium WordPress news & magazine theme by Jegtheme.