রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় পরিবেশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। বৈঠকে প্রকল্পের কারিগরি কাঠামো, সম্ভাব্য বিনিয়োগ মডেল এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৈঠকে চীনভিত্তিক পরিবেশ সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান ঝেজিয়াং ওয়েইমিং এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন কোম্পানির প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের একটি বিস্তারিত কারিগরি উপস্থাপনা করা হয়। এতে রাজধানীতে প্রতিদিন উৎপাদিত কঠিন বর্জ্যকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পরিবেশগত মানদণ্ড তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়।![]()
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের নগর ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য এখন শুধু পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদেও পরিণত হতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যকে বিদ্যুতে রূপান্তর করা গেলে একদিকে যেমন নগরীর বর্জ্য সংকট কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন উৎস তৈরি হবে। তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে প্রকল্পের সম্ভাব্য বিনিয়োগ কাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, পরিচালনা ব্যয়, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বাস্তবায়নের ধাপভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। চীনা প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।![]()
চীনা প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ সংরক্ষণ গ্রুপের চেয়ারম্যান চেং উলিয়াং, সভাপতির সহকারী উ জিয়ান এবং বিনিয়োগ বিভাগের ব্যবস্থাপক হুয়াং ওয়েইফেং।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের বর্জ্যকে ব্যবহার করে প্রায় ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।![]()