৪ হাজার ৭০০ ক্যাফের ব্র্যান্ড ক্যাফে আমাজন বাংলাদেশে
স্টাফ রিপোর্টার
থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় কফি চেইন ক্যাফে আমাজন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ ও থাইল্যান্ডের পিটিটি অয়েল অ্যান্ড রিটেইল বিজনেস পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের (পিটিটি ওআর) যৌথ উদ্যোগে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ব্র্যান্ডটির প্রথম ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ক্যাফে আমাজনের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ব্র্যান্ডটির যাত্রা শুরু হয়। পরে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের অ্যাট্রিয়ামে আয়োজন করা হয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে ক্যাফে আমাজন দেশের দ্রুত সম্প্রসারিত কফি ও ক্যাফে বাজারে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি আরও বাড়াল। একই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
ক্যাফে আমাজন বাংলাদেশের উদ্যোগটি টিবিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহানের নেতৃত্বে পিটিটি ওআরের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্যাফে আমাজনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে শুধু একটি বিকাশমান বাজার হিসেবে দেখছি না, বরং অসাধারণ সম্ভাবনাময় একটি দেশ হিসেবে বিবেচনা করছি। পিটিটি ওআর-এর সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিশ্বমানের একটি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। ক্যাফে আমাজন একটি বৃহত্তর যাত্রার সূচনা, যা আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।”
ক্যাফে আমাজনের বাংলাদেশ কার্যক্রমকে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক কয়েকটি আউটলেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে দেশজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এই ব্যবসায় যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্যাফে আমাজনের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। পিটিটি ওআর ও ক্যাফে আমাজন ইন্টারন্যাশনালের লাইফস্টাইল বিজনেসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রাইপিট প্রেমমানি, বিজনেস অ্যান্ড কমার্স ডেভেলপমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট থিতি সুয়ানসাক এবং স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট উইলাই বুনচারোয়েনচাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিফর্ন চিরাছাওয়াদি, রয়্যাল থাই অ্যাম্বাসির মিনিস্টার কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক) অনুসর্ন কাউতিপবিত্তায়া এবং হাঙ্গেরিয়ান-থাই চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট পোজ্জানা পানিয়াংভাইত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে থাই সংস্কৃতির বিভিন্ন পরিবেশনা ছিল। ঐতিহ্যবাহী মুয়ে থাই মার্শাল আর্ট প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাই সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গ্রাহক অ্যাক্টিভেশন এবং ক্যাফে আমাজনের মাসকট ‘জোনজোন’-এর উপস্থিতি ছিল। সংগীত পরিবেশন করেন হাবিব ওয়াহিদ ও জেফার রহমান।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যাফে আমাজন বর্তমানে থাইল্যান্ডের বৃহৎ কফি চেইনগুলোর একটি। পিটিটি অয়েল অ্যান্ড রিটেইল বিজনেস পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড পরিচালিত ব্র্যান্ডটির থাইল্যান্ডে ৪ হাজার ৭০০টির বেশি ক্যাফে রয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের আটটি দেশে ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক আউটলেট পরিচালিত হচ্ছে।
ক্যাফে আমাজন ‘টেস্ট অব নেচার’ বা ‘প্রকৃতির স্বাদ’ দর্শনকে ব্র্যান্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরে। কফির পাশাপাশি থাই পানীয়, প্রকৃতি-অনুপ্রাণিত পরিবেশ এবং গ্রাহকসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কফি ব্র্যান্ডের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ক্যাফে ব্যবসাতেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে ক্যাফে সংস্কৃতির বিস্তার, নগরভিত্তিক ভোক্তার পরিবর্তিত রুচি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার প্রসারের কারণে এ খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই বাজারেই ক্যাফে আমাজনের প্রবেশকে নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।![]()