অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা ও দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করতে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তাঁর মতে, একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা ও অন্যান্য পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরাপদ ও সহজে ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলা কিউআর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ভবনের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সহযোগিতায় ক্যাশলেস ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহতেশামুল হক খান।
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল লেনদেন করা সম্ভব। এতে গ্রাহকের জন্য লেনদেন আরও সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃপরিচালনযোগ্য একটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে উঠছে।
তিনি বলেন, বাংলা কিউআর শুধু ডিজিটাল লেনদেনের একটি মাধ্যম নয়, এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর ব্যবহার বাড়লে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ধীরে ধীরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাংলা কিউআর নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার সম্প্রসারণেও এটি সহায়ক হবে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক খান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন সময় ও অর্থ—দুই ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ী। প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনের প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি মানুষের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বাংলা কিউআরের ব্যবহার, সুবিধা ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলা কিউআর ব্যবহার করে সরাসরি লেনদেনের একটি প্রদর্শনীও করা হয়। পাশাপাশি সচেতনতামূলক উপস্থাপনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বাংলা কিউআর ব্যবহারের পদ্ধতি, সুবিধা এবং ডিজিটাল লেনদেনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারেন।