প্রতিবেদক
ব্যাংক এশিয়া পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও চিফ ক্রেডিট অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. আরিফুল বারী। ব্যাংকিং খাতে ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই পেশাজীবী সম্প্রতি ব্যাংক এশিয়ায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ঋণ ব্যবস্থাপনা, করপোরেট ও হোলসেল ব্যাংকিং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যাংক এশিয়ার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন দায়িত্বে আরিফুল বারী ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম ও ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। বিশেষ করে ঋণ বিতরণে ঝুঁকি মূল্যায়ন, মানসম্মত ঋণ পোর্টফোলিও গড়ে তোলা এবং টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রেডিট ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার কারণে আরিফুল বারী দেশের করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং পরিসরে পরিচিত একটি নাম। তিনি এর আগে সিটি ব্যাংক পিএলসির হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃত্বস্থানীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে কাজ করার সময় তিনি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক গ্রুপ ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের ব্যাংকিং চাহিদা পূরণ, ব্যবসায়িক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সিটি ব্যাংকে দায়িত্ব পালনের আগে ও পরে ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা তার পেশাগত দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত করেছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণ প্রস্তাব মূল্যায়ন, গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ, ব্যবসায়িক ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ফলে ব্যাংক এশিয়ায় চিফ ক্রেডিট অফিসার হিসেবে তার নিয়োগকে ব্যাংকের ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ নেতৃত্ব যুক্ত হওয়ার বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরিফুল বারী তার কর্মজীবন শুরু করেন হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশে। দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবনের সূচনালগ্নেই তিনি ব্যাংকিংয়ের আধুনিক ও আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। এইচএসবিসিতে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোতে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সেই অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে আরিফুল বারী টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। ব্যাংকিং ব্যবসায় শুধু ঋণ বিতরণ নয়, বরং ঋণের গুণগত মান, গ্রাহকের সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বর্তমান সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণের মান, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে একজন অভিজ্ঞ ক্রেডিট পেশাজীবীর দায়িত্ব গ্রহণ ব্যাংক এশিয়ার ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে করপোরেট ও হোলসেল ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে তাকে কার্যকর ভূমিকা পালনে সহায়তা করবে।
ব্যাংক এশিয়ায় ডিএমডি ও চিফ ক্রেডিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে আরিফুল বারীর পেশাগত জীবনে নতুন একটি অধ্যায় শুরু হলো। নতুন দায়িত্বে তিনি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যাংকিং বিষয়ে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতেও তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পেশাগত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতা, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চর্চা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছেন।
আরিফুল বারী অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। অর্থনীতির একাডেমিক জ্ঞান এবং ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি একজন দক্ষ ব্যাংকার হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, গ্রাহক সম্পর্ক এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত করে কাজ করেছেন।
ব্যাংক এশিয়ায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণের ফলে তার দীর্ঘ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির ক্রেডিট ও হোলসেল ব্যাংকিং কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ঋণের ঝুঁকি নিরূপণ, মানসম্মত গ্রাহক নির্বাচন এবং টেকসই ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা ব্যাংকটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
২৫ বছরের বেশি সময়ের পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে আরিফুল বারীর ব্যাংক এশিয়ায় যোগদান এমন এক সময়ে হলো, যখন দেশের ব্যাংকিং খাত ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঋণের গুণগত মান উন্নয়ন ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে নতুন দায়িত্বে তার অভিজ্ঞতা ব্যাংক এশিয়ার ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, সেটিও ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের নজরে থাকবে।![]()