নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় একের পর এক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে সরকার। আট কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্তের একদিন পরই আরো এক কার্গো কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। নতুন এ কার্গোটি ১১ থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে দেশে সরবরাহের কথা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের (এমএমবিটিইউ) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ ডলার।
একটি সাধারণ এলএনজি কার্গোতে প্রায় ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ গ্যাস থাকে। এ হিসাবে নতুন কার্গোটির মোট ক্রয়মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ ৮ হাজার ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮৮০ কোটি টাকার কাছাকাছি, প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে।
গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি সামাল দিতে সরকার সম্প্রতি একাধিক এলএনজি কার্গো আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও দেশীয় উৎপাদন সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে এলএনজি কেনার একটি দরপ্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ওই এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবটি নিয়ে গতকালের বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জ্বালানি খাতে আমদানি করা এলএনজির ভূমিকা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারদর, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং আমদানির পরিমাণের ওপর এর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে। ফলে একদিকে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলএনজি আমদানি প্রয়োজন হচ্ছে, অন্যদিকে এর উচ্চ ব্যয় বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের সামগ্রিক ব্যয়ের ওপরও চাপ তৈরি করছে।
বিশেষ করে স্পট মার্কেট থেকে স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি পড়ে। তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং আমদানির মধ্যে ভারসাম্য তৈরির বিষয়টি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।