মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় বিশ্ববাজারে পণ্যটির দামে চাপ তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার মালয়েশিয়ার ডেরিভেটিভস বাজারে অক্টোবর সরবরাহের পাম অয়েল চুক্তির দাম দশমিক ২৮ শতাংশ কমে প্রতি টন ৪ হাজার ৭১১ রিঙ্গিতে নেমে আসে। তবে সপ্তাহের হিসাবে পণ্যটির দামে দ্বিতীয় দফায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই শেষে দেশটির পাম অয়েলের মজুদ পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ার আশঙ্কায় এতে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে শিকাগোর সয়াবিন তেলের বাজারে দুর্বলতা পাম অয়েলের দামেও প্রভাব ফেলেছে।
তবে বাজারে চাহিদার কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। উৎসব মৌসুম সামনে রেখে ভারতের ভোজ্যতেল আমদানি জুলাইয়ে ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। দেশটির পাম অয়েল আমদানি আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৭ লাখ ৩০ হাজার ৯৬৫ টনে পৌঁছেছে। সয়াবিন তেলের আমদানিও ৩১ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮১ টনে দাঁড়িয়েছে।
আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ভারতে একাধিক উৎসব থাকায় এ সময়ে ভোজ্যতেলের চাহিদা সাধারণত বাড়ে। ফলে আমদানিকারকদের ক্রয়ও শক্তিশালী থাকতে পারে। বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগস্টে ভারতের পাম অয়েল আমদানি ৭ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পাম অয়েলের ওপর নতুন করে চাহিদার চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ পাম অয়েল বায়োডিজেল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। এ কারণে জ্বালানি তেলের বাজারের গতিবিধিও পাম অয়েলের দামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তাও রয়েছে। মালয়েশিয়ার অন্যতম বড় পাম অয়েল উৎপাদক এসডি গুথরি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাব ২০২৭ ও ২০২৮ সালের উৎপাদনে পড়তে পারে। আবহাওয়ার শুষ্ক ও উষ্ণ পরিস্থিতির প্রভাব সাধারণত ১২ থেকে ১৬ মাসের বিলম্বে পাম অয়েল উৎপাদনে প্রতিফলিত হয়।
ফলে স্বল্পমেয়াদে মালয়েশিয়ায় বাড়তি মজুদ পাম অয়েলের দামে চাপ তৈরি করলেও ভারতের শক্তিশালী আমদানি, বায়োডিজেল খাতের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়ে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি বাজারে দামের নিম্নমুখী প্রবণতাকে সীমিত করতে পারে।