পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই একজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও হুমায়ূন কবিরকে নতুন করে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এটি মূলত জাতিসংঘে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের আসন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কৌশলগত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ সরকার ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী করে। পরবর্তীতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তিনি ওই পদে নির্বাচিত হন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানকে প্রশ্ন করেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না এবং দুই দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন।
জবাবে ড. খলিলুর রহমান জানান, তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। প্রধানমন্ত্রী তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে এক বছরের পূর্ণকালীন ছুটি দেওয়া হবে।![]()
আগামী মাস থেকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ড. খলিলুর রহমান সাধারণ বিতর্ক পরিচালনা, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন সমন্বয়, বৈঠক পরিচালনা এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন। ফলে দীর্ঘ সময় তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন।
এই প্রেক্ষাপটে তার অনুপস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম, দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক বৈঠক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই হুমায়ূন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
হুমায়ূন কবির এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করলেও উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীর সাংবিধানিক ও প্রটোকলগত ক্ষমতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্য দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সাধারণত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পর্যায়েই অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে রাষ্ট্রীয় সফর, দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক ও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষরের মতো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব উপদেষ্টার পরিবর্তে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীই পালন করেন।
সরকারি সূত্রের মতে, গত ছয় মাস ধরে ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করার মাধ্যমে হুমায়ূন কবির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি, অগ্রাধিকার ও চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে পূর্ণ প্রস্তুতি অর্জন করেছেন। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি নতুন নিয়োগ নয়; বরং জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের পররাষ্ট্র প্রশাসনকে কার্যকর রাখার একটি সমন্বিত কৌশল।![]()